বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকারকে সরাতে হবে। তারা নির্বাচিত সরকার নয়; তাদের কোনো বৈধতা নেই। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে তাদের পতন হবে। তাই আমাদের দাঁড়াতে হবে; ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে। সরকার পতনের এক দফা দাবিতে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে যুবদলের উদ্যোগে কারাগারে বন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু ও নোয়াখালীর বসুরহাটে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে স্থানীয় সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মোজাক্কির হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

সমাবেশ উপলক্ষে সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশের সাঁজোয়া যান, রায়ট কার, জলকামানের গাড়ি ছিল প্রেস ক্লাবের পূর্বদিকের সড়কে। সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকে বিভিন্ন উপায়ে ব্যাপক সংখ্যক নেতাকর্মী প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সকাল ১০টায় সমাবেশ শুরু হয়ে ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে শেষ হলে দ্রুত নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন। বিএনপির আমান উল্লাহ আমান ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থেকে নেতাকর্মীদের চলে যেতে বলেন। এর পরও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল সভাপতি রফিকুল আলম মজনুসহ বেশ কয়েক নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করে।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, লেখক মুশতাক আহমেদকে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে গ্রেপ্তার করে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রেখে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয়ভাবে হয়েছে। তাই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুধু এই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে প্রায় ৭শ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু সরকারের সমালোচনা বা কার্টুন বা লেখার কারণে ৫ বছরের শিশু থেকে শুরু করে গৃহবধূ, ছাত্র-শিক্ষক, দিনমজুর, রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা।

তিনি বলেন, জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকার এ ধরনের সম্পূর্ণ গণবিরোধী আইন তৈরি করেছে। এ আইনের মাধ্যমে তারা জনগণের কথা বলার অধিকার, বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সমাবেশে আসতে রাস্তায় রাস্তায় নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়া হয়েছে। আমি পুলিশের কাছে গেলাম, পরিচয় দিলাম। আমার দূঃখ লাগে, দেশ থেকে আদব-কায়দা সব উঠে গেছে নাকি! এই সরকার কাউকে সম্মান দিতে জানে না; এই সরকার কোনো সম্মান পেতে পারে না।

যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানের পরিচালনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু প্রমুখ বক্তব্য দেন।