বর্তমান 'দুঃশাসন' ও 'কর্তৃত্ববাদী' শাসনের অবসানে 'জাতীয় সরকার' গঠন অপরিহার্য বলে মনে করছেন গণফোরামের একাংশের নেতারা। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আগামীতে 'বৃহত্তর ঐক্য' গড়ে তোলার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছেন তারা।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর রূপায়ন টাওয়ারে অবস্থিত একটি হোটেলে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে গণফোরামের একাংশের মুখপাত্র ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু এসব জানান। এ মতবিনিময় সভায় গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, 'বর্তমানে রাষ্ট্র একটি ভয়ংকর সার্বিক নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই অবস্থায় দেশের সব দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ ও লালন করেন তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে বর্তমান কর্তৃত্ববাদী দুঃশাসনকে হটাতে হবে। বর্তমান বিরাজমান অবস্থা থেকে জাতিকে নিষ্কৃতি দিতে জাতীয় সরকার গঠন অপরিহার্য।'

মোস্তফা মোহসিন মন্টু বলেন, 'আমরা সম্মেলন নিয়ে এখন ব্যস্ত। সম্মেলনটা শেষ করে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করব। যে পরিধিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আছে তাকে আরও বড় ও আরও সুন্দর করা যায় কিনা। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী গণতন্ত্রমনা শক্তিকে নিয়ে আমরা জাতীয় ঐক্য করতে চাই, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করতে চাই।'

সুব্রত চৌধুরী তার লিখিত বক্তব্যে বর্তমান সরকারের অপশাসন, দুর্নীতি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাক স্বাধীনতা হরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, 'স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এর কারণ হলো জনগণের মালিকানা কেড়ে নিয়ে তাদের গোলাম করে রাখা হয়েছে, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করা হয়েছে। রাতে ভোট চুরি করে লুটেরা চক্রকে জনগণের প্রতিনিধি নাম দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। এর ফলে একটি শক্তিশালী সক্ষম রাষ্ট্র কাঠামো নির্মিত হচ্ছে না।'

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে গণফোরামের সাবেক নির্বাহী সভাপতি ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার হরণের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গণমাধ্যমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের দাবির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'সাংবাদিকদের কোনো দাবি এ সরকার মানে নাই। প্রতারণা করেছে। কিন্তু সাংবাদিকদের মধ্যে সেই বারুদ কোথায়? জ্বলে উঠতে পারেন না কেনো? আমরা পারি না- এটা আমাদের ব্যর্থতা। আপনারা পারেন না কেনো? পাকিস্তান আমলে সাংবাদিকরা আমাদের পথ দেখিয়েছেন। স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের যে ভূমিকা ছিলো সেটা আজ কী পরিমান আছে তার আত্মসমালোচনা করা দরকার।'

পরে ফ্লোর নিয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, 'গণফোরাম সাংবাদিকদের পক্ষে কী করেছে? এটা তো মতবিনিময় অনুষ্ঠান, যদি সাংবাদিকদের নিয়ে সমালোচনা-আলোচনা করতে চান, আমি আমন্ত্রণ করছি, প্রে সক্লাবে আসুন। সেখানে আমাদের ইউনিয়নের নেতারাও আছেন, প্রেসক্লাবের নেতারাও আছেন।'

গণফোরাম জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আছে কি-না এমন প্রশ্নে মন্টু বলেন, 'একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্যফ্রন্ট গঠন হয়েছিল। আমরা এই ফ্রন্টে নেই- এটা আমরা কখনো বলিনি।'

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'গণফোরামে ড. কামাল হোসেন, আমি বা অমুক ব্যক্তি- কেউ বড় নয়। আমাদের এটা একটা সংগঠন, এর একটা গঠনতন্ত্র আছে, এটার নিয়মাবলী আছে। গঠনতন্ত্র মোতাবেক সংগঠন চলবে। আমাদের কাউন্সিলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব আমাদের দলের নেতৃত্বে কে থাকবেন। কাউন্সিলররা সিদ্ধান্ত নিবেন- কে নেতৃত্বে থাকবেন, কে থাকবেন না।'

মন্টু বক্তব্যের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশাপাশি, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, প্রবাসী সরকারের জাতীয় চার নেতা, সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

মতবিনিময় সভায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বাংলাদেশের সংবাদ-এর সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া, কালের কণ্ঠের উপ-সম্পাদক এনাম আবেদীনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে গণফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, জামাল উদ্দিন আহমেদ, আসাদুজ্জামান, হেলাল উদ্দিন, আইয়ুব খান ফারুক, খান সিদ্দিকুর রহমান, লতিফুল বারী হামীম, আবদুল হাসিব চৌধুরী, মুহাম্মদ উল্লাহ মধু উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : গণফোরাম মতবিনিময় সভা

মন্তব্য করুন