গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, সরকারি দলের লোকেরাই সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় যুবলীগ দায়ী।

এ সময় তিনি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০ পরিবারের বাড়ি নির্মাণ, একজন বিচারপতি, সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা এম করিমের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাকে প্রধান করে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন এবং মসজিদের মাইক ধর্মীয় কাজ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার না করারও দাবি জানান।

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও লুটপাটের প্রতিবাদ এবং দুস্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের মেজর হায়দার বীরউত্তম মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসব কথা বলেন।

এ সময় নোয়াগাঁওয়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিবরণ তুলে ধরেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য নঈম জাহাঙ্গীর, রাষ্ট্রচিন্তার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, শাল্লার নোয়াগাঁও আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত। ওই গ্রামে শুধু সজল সরকার নামে একজন বিএনপির লোক আছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ঝুমন দাস বিএনপি করেন- এটা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানেন না, তারা নাকি প্রথম এই কথা পত্রিকা মারফত শুনেছেন। 

তিনি বলেন, প্রশাসনও হামলার সব জানত। প্রশাসন তাদের আশ্বস্ত করে বলেছিল, হামলা হবে না। তাই গ্রামবাসী পালিয়ে যায়নি। তবু হামলা হয়েছে। এই কাজে মসজিদের তিনটি মাইক ব্যবহার করা হয়েছে। সরকারি দলের তিনজন নেতা মাইক ব্যবহার করেছেন।

হামলার ঘটনায় প্রশাসনের নির্লিপ্ত থাকার অভিযোগ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, সেখানে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার পেয়েছি। তাদের মধ্যে ১০ জন সংখ্যালঘু এবং একজন মুসলিম মুক্তিযোদ্ধা। তারা অভিযোগ করেছেন, হামলার বহু আগে তারা ইউএনওকে জানিয়েছেন এবং সাহায্য চেয়েছেন; কিন্তু ইউএনও তাদের সাহায্য করেননি, বরং ফোনে ওই সময় দুর্ব্যবহার করেছেন।