চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডব, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটি বলেছে, মৌলবাদীদের এ ধরনের চক্রান্ত রুখতে সব বাম, গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়, হেফাজতি নেতৃত্বের ষড়যন্ত্রমূলক নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রাণহানি ঘটেছে। রেলস্টেশনসহ রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ পালনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তারা পরিকল্পিতভাবে ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি দেওয়া, শাল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলা এবং সবশেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরোধিতার নামে একের পর এক এসব ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রচেষ্টা কিছু সময় ধরে লক্ষ্যণীয়। এসব ইস্যুতে হেফাজতের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে একইভাবে বাম ও মধ্যপন্থার নামে বিভিন্ন সংগঠনও ঘটনা ঘটাতে একের পর এক কর্মসূচি দিচ্ছে। বিএনপির ২৬-২৭ মার্চের সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি প্রত্যাহার ও জামায়াতের নিশ্চুপ থাকাও লক্ষ্যণীয়। এসব ঘটনা তথাকথিত স্থিতিশীলতার নামে হেফাজতকে পক্ষে রাখতে তাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন সরকার ও দলের সমঝোতা এবং এসব বিষয়ে একের পর এক ছাড় দেওয়ার পরিণাম। 

ওয়াজ মাহফিল ও ইউটিউবে হেফাজত ও তাদের অনুসারীরা একের পর এক ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে এলেও তাদের বিরুদ্ধে আলোচিত-সমালোচিত ডিজিটাল আইন প্রয়োগের কোনো প্রয়োজনও বোধ করছে না সরকার। ওয়ার্কার্স পার্টি বহু আগেই বলেছে, সাপের মুখে চুমু খেলেও সাপ ছোবল মারবেই। এই কৌশল যে কত বৃথা, রাজনৈতিক ঘটনাবলি এর প্রমাণ।