ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে পুলিশ-বিজিবির গুলিতে হত্যা এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের আক্রমণের নিন্দা এবং ক্ষোভ জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। নেতারা বলেছেন, সরকারের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের প্রেক্ষাপটে উগ্র মৌলবাদী শক্তির বিস্তার ঘটছে। সরকার উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদ দিয়ে আসছে। তাই এই গোষ্ঠীর সৃষ্ট নৈরাজ্যের দায় সরকারকেই নিতে হবে।

সোমবার রাজধানীর তোপখানা রোডের বাসদ কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সভায় নেতারা এসব কথা বলেন। গণবিরোধী শাসক ও উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।

বাম জোটের সমন্বয়ক ও সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ কস্ফাফী রতনের সভাপতিত্বে এ সভায় উপস্থিত ছিলেন বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, ইউসিএলবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আকবর খান, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আলী প্রমুখ।

নেতারা বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে উগ্র সাম্প্রদায়িক নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সরকার পরোক্ষভাবে সাম্প্রদায়িকতার পক্ষেই অবস্থান নেয়। সরকারের এ সিদ্ধান্ত সারাদেশের মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে। তারা বলেন, মোদির সফরের প্রতিবাদকারী মানুষের ওপর সরকারি দলের ছাত্র-যুব গুণ্ডারা বারবার আক্রমণ চালিয়েছে। পুলিশ-বিজিবি এবং আওয়ামী গুণ্ডাদের এই আক্রমণে হতাহতের ঘটনার দায় সরকারকে নিতে হবে। হত্যায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

নেতারা একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেলস্টেশন, রেলগাড়ি, ভূমি অফিস ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর এবং নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এসব ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।