দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তি ও সমাজ পরিবর্তনের জন্য সবাইকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, আমি একা কিছু করতে পারব না। পরিবর্তনের জন্য আমরা সম্মিলিতভাবে রাস্তায় নামতে পারি। আমাদের রাস্তায় নামতে হবে। নয়তো কারও জীবন সুখের হবে না। কেউ শান্তিতে থাকতে পারবে না।

বুধবার ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা কমরেড আলাউদ্দিন আহমেদ স্মরণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জনগণ ধীরে ধীরে ক্ষিপ্ত হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। সেখানে সরকারি অফিসে কেন আক্রমণ হলো। থানায় আক্রমণের একটা কারণ দেখতে পারি- প্রশাসন লুট করে, রাহাজানি করে, অত্যাচার করে, ঘুষের মাত্রা বাড়ায়। কিন্তু তহশিল অফিস, ম্যাজিস্ট্রেটের অফিসে হামলার কারণ কী? কারণটা হলো, তারা সবাই ডাকাত। ২০১৮ সালে এরা ডাকাতি করেছে। এরা ডাকাতি করেছে, আর আওয়ামী লীগ ডাকাতির ফসল ঘরে তুলেছে। তাই জনগণের ক্ষোভ। যখনই সুযোগ এসেছে তখনই মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, আমি কোনোভাবেই হেফাজতের বাড়িঘর, গাড়ি ভাঙচুরের সমর্থন করি না। আমি বারবার বলি, সংযত হোন। তবে এখানে দেখতে হবে জনগণ কয়টি পুড়িয়েছে আর বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা কয়টি পুড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজ শ্রমিক সমাজকে শিক্ষিত করতে হবে। আমাদের একত্রে থাকতে হবে। আমরা কৃষক-শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার চাই। তারা এই শাসনের অংশীদার হতে চায়, তাদের বক্তব্য রাখতে দিতে হবে। আজ প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্যায়-অবিচার চলছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।

হেফাজতে ইসলামের উদ্দেশে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ভালো হয়ে যান। আপনারা আওয়ামী লীগের ঘুষের পয়সায় চলবেন না। আওয়ামী লীগ আপনাদের মাথায় তুলেছে, যখন মাথা থেকে ফেলে দেবে, তখন হেফাজত ভাইয়েরা টের পাবেন। তারা আপনাদের অন্ধকূপে রাখতে চায়। আমরা আলোকিত মাদ্রাসা চাই। আলোকিত মাদ্রাসায় বিজ্ঞান পড়ানো হবে, বাংলা পড়ানো হবে, অঙ্ক পড়ানো হবে, কম্পিউটার শেখানো হবে।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে ও পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান রিজুর পরিচালনায় বক্তব্য দেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য নঈম জাহাঙ্গীর, কমরেড আলাউদ্দিন আহমেদের বড় ছেলে কামরুল হাসান রঞ্জু, ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান প্রমুখ।