ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর নিয়ে বিএনপি কোনো বিরোধিতা করেনি বলে জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। একইসঙ্গে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপিকে কেন জড়ানো হচ্ছে? এমন প্রশ্নও রেখেছেন তিনি।

শনিবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় সরকারি দলের সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের এক বক্তব্যের জবাবে হারুন এ কথা বলেন।

নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন শেখ সেলিম। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতে ইসলাম এ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তিনি বিএনপিকেও ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ আখ্যা দেন এসময়।

জবাব দিতে গিয়ে এমপি হারুন বলেন, যে বিষয়টি এ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, এ প্রসঙ্গে জানতে চাই, আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কী থাকবে? পঞ্চাশ বছরপূর্তি আমাদের সুবর্ণজয়ন্তী। এ সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা লাশ উপহার দিলাম। আমরা কি শান্তিপূর্ণভাবে সারা বাংলাদেশের কোথাও সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে পেরেছি?

এসময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা হইচই করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।

শেখ সেলিমের বক্তব্যের জবাবে হারুনুর রশীদ বলেন, বিএনপি থেকে মোদিবিরোধী কোনো স্লোগান বা মোদি আসবেন না, এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। কোনো কথা ছিল না। যেহেতু ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ঢাকায় সব কর্মসূচি বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। করোনার সংক্রমণ বাড়ছে, সেহেতু বিএনপি জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জিয়াউর রহমানের কবরে সীমিত আকারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ যারা করল, তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারত সরকার। যখন ভাস্কর্য-মূর্তি নিয়ে দেশে একটি সংঘাতের তৈরি হলো, তখন হেফাজতের সঙ্গে তো সরকার আলোচনা করেছে। এর আগেও তো সরকার হেফাজতের সঙ্গে আলোচনা করেছে। আলোচনা করতেন, যে বিদেশি মেহমানরা আসছে, তোমরা আন্দোলন-বিক্ষোভ বন্ধ রাখো। সেই ক্ষেত্রে বিএনপিকে কেন জড়ানো হচ্ছে?

এমপি হারুন বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বন্ধ করে দিলে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ অবশ্যই সৃষ্টি হবে। সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক চর্চাগুলোকে মুক্ত করা দরকার। মতপ্রকাশের জায়গাগুলো আজ রুদ্ধ হয়ে গেছে। সেই অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে হবে। আজকের সংকট হচ্ছে গণতন্ত্রের সংকট। এই সংকটের জন্য জাতি আজকে এই অবস্থার মধ্যে।