গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আমরা ১৪ সদস্যের একটি টিম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানে স্থানীয় জনগণ, আওয়ামী লীগ, পুলিশ ও হেফাজত নেতাকর্মীদের বক্তব্য শুনেছি। শুনে এবং দেখে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এই হামলার সঙ্গে তৃতীয় রাষ্ট্রের ইন্ধন রয়েছে। পাশাপাশি সরকারেরও হাত রয়েছে।

সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেজর হায়দার মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন। 

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘটিত তাণ্ডবের ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বিবরণ তুলে ধরার জন্য এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে গত শনিবার ঢাকা থেকে যাওয়া প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, হেফাজতের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থন করি না। তবে তাদের মিটিং-মিছিল করাটাকে সমর্থন করি। এটা তাদের মৌলিক অধিকার। তিনি বলেন, রেলস্টেশনে আগুনের ঘটনা সাত দিন আগে ঘটলেও গত শনিবার আমরা সেখানে (ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়) গিয়ে দেখেছি আগুন জ্বলছে। এটা কেন? এটা কাকে দেখাতে চান? তাহলে কি হেফাজতে ইসলাম নাকি জনগণ নাকি অন্য কোনো তৃতীয় রাষ্ট্র জড়িত।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতি এখন আমলা ও ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে। রাজনীতি রাজনীতিবিদদের করতে দেন। সেখানকার এমপি একজন আমলা। তার কোনো রাজনৈতিক কর্মী নেই। তার রয়েছে পুলিশ ও হেলমেট বাহিনী।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মামুনুল হকরা হচ্ছেন সরকারের এজেন্ট। রোম যখন পুড়ছিল, তখন নিরো বাঁশি বাজাচ্ছিল। এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুড়ছে আর তিনি তখন ফুর্তি করতে গেছেন রিসোর্টে। ফুর্তি করেন আপত্তি নেই, কিন্তু ন্যায্য বউ নিয়ে যান।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহতের তালিকা প্রকাশ করে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও সঠিক বিচার এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বায়তুল মোকাররম থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত পুরো ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করতে হবে।

গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, মানুষ এখনও কথা বলতে পারে না। অজ্ঞাতনামা মামলায় মানুষকে আটকানোর সুযোগ হয়েছে। এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি শিশু গুলিবিদ্ধ। অথচ চিকিৎসা নিতে যেতে পারছে না। এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপিকা দিলারা চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, রাষ্ট্রচিন্তার অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, গণস্বাস্থ্যের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, নারীর জন্য সুশাসনের নির্বাহী পরিচালক রুবী আমানউল্লাহ, পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান প্রমুখ।