করোনায় আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেওয়ার জন্য এখন যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণ আছে। স্বাধীনভাবে তার চিকিৎসা নেওয়ার স্বার্থে সরকারকে মানবিক হতে হবে।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে 'উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজ' আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা আগমনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতায় গ্রেপ্তার ছাত্র, যুব ও শ্রমিকদের পরিবার এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত হবে মানুষের প্রতি উদার হওয়া, সহানুভূতিশীল হওয়া। এই ছেলেগুলোকে মুক্ত করে দেন। আমরা আপনার পাশেই থাকব। আর কেউ না থাকুক রাস্তায় আমি একা দাঁড়িয়ে আপনার পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করব।

গ্রেপ্তার ছাত্রদের আত্মীয়স্বজনদের উদ্দেশ্যে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, আপনারা একটু ধৈর্য ধরেন। আশা করি আমরা জয় পাব। আইনকে হতে হবে নিরপেক্ষ। সবাইকে সংগ্রাম করে অধিকার আদায় করতে হবে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং বাংলাদেশ ছাত্র-যুব-শ্রমিক অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল হক নুর বলেন, আমাকে গুম করার চেষ্টা করা হয়েছে। রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এদেশে রাজনীতি করতে এসে কি আমরা পাপ করলাম, নাকি এদেশে জন্ম নেওয়া পাপ? তিনি বলেন, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তারদের অনেকেই ছোটখাটো চাকরি করেন, কেউ ছাত্র ও সাধারণ মানুষ। তিনি বলেন, মার্কেটিংয়ে চাকরি করে একটা ছেলে আমার লাইভ দেখে বিক্ষোভে গিয়েছিল, সেই ছেলেটিও এখন কারাগারে। এরকম অসংখ্য নিরীহ নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। ২৫ মার্চ গ্রেপ্তার করেছিল ৪০ জনের মতো। ২৭ তারিখে আমাদের ভাসানী অনুসারী পরিষদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছিল। সেখান থেকে আমাদের আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাকে গুম করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ড. রেজা কিবরিয়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট রাখাল রাহাসহ গ্রেপ্তারদের পরিবারের সদস্যরা।