চট্টগ্রামের বাঁশখালী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে হতাহতের ঘটনায় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ ও নিন্দা অব্যাহত রয়েছে। 

রোববার পৃথক সভা-সমাবেশ ও বিবৃতিতে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এসব দল ও সংগঠনের নেতারা। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং আহতদের রাষ্ট্রীয় খরচে সুচিকিৎসার দাবি জানান তারা।

রাজধানীর তোপখানা রোডে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর জরুরি সভায় বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি সমাধান না করে পুলিশ ডেকে নির্বিচারে শ্রমিক হত্যা করে অমার্জনীয় অপরাধ করেছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে পুলিশি রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হবে, যা গণতান্ত্রিক সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে। ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রায়, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, মো. তৌহিদ, কাজী আনোয়ারুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

গণসংহতি আন্দোলনের অনলাইন আলোচনায় বাঁশখালী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহত-আহত শ্রমিক পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা দাবি করা হয়েছে। 

গণসংহতি আন্দোলনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়কারী হাসান মারুফ রুমীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান শামসুদ্দীন ইলিয়াস।

বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট। সংগঠনের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুলের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন আব্দুর রাজ্জাক, খালেকুজ্জামান লিপন, জুলফিকার আলী, সাইফুজ্জামান বাদশা, খলিলুর রহমান, রাশেদুর রহমান রাশেদ প্রমুখ। বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার বিচারসহ চার দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতীকী মানববন্ধন করেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি এম. হাফিজউদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশের (এইচআরএফবি) সমন্বয়ক তামান্না হক রীতি, আহ্বায়ক গোলাম মনোয়ার কামাল, স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য শাহীন আনাম, জাকির হোসেন, সারা হোসেন, রঞ্জন কর্মকার, সঞ্জীব দ্রং ও সালেহ আহমেদ, নারী পক্ষ এবং ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি কাজী আব্দুল মোতালেব জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক অতুলন দাস।