নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, করোনার মহাবিপর্যয়ের মধ্যেও বিরোধী দলগুলো দমন করতে সরকার বেশি সচেষ্ট। তার সিকিভাগও হাসপাতালে আইসিইউ বৃদ্ধি, অপিজেন মজুদ কিংবা টিকা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট নয়। এই সংকটের মধ্যেও তারা বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন, গ্রেপ্তার, রিমান্ড, অত্যাচার অব্যাহত রেখেছে। সরকারি বাহিনী এবং সরকারদলীয় ক্যাডাররা নির্দি্বধায় গুলি করে মানুষ মারছে।

বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মান্না বলেন, দেশের এই ভয়ংকর বিপর্যয়ের সময় মানুষকে বাঁচিয়ে রাখাই হচ্ছে সত্যিকারের উন্নয়ন। কিন্তু করোনা সংক্রমণের পর গত ১৪ মাসে সরকার যা করেছে, তাতে এই দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এখন পর্যন্ত সে রকম কোনো উদ্যোগ সরকার নেয়নি। তারা জোর করে ক্ষমতায় আছে। তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যে কোনোভাবে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা।

দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, স্ব-স্ব অবস্থান থেকে নিজেদের অধিকারের জন্য আওয়াজ তুলুন, প্রতিবাদ করুন। এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে সংকট মোকাবিলা করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। তারপরও আমরা আশা করি, সরকার মানবিক হবে এবং দেশের মানুষকে বাঁচাতে আমাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করবে। আর যদি সরকার আগের মতই আচরণ করে, তবে রাজপথে গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া অন্য কোনো পথ থাকবে না। তিনি আরও বলেন, করোনার প্রথম ঢেউ মোকাবিলার ক্ষেত্রে নানা রকম দুর্নীতি, অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা এবং সমন্বয়হীনতা দেখেছি আমারা। স্বাস্থ্য খাতের প্রতিটি ক্ষেত্র দেখিয়ে বলা যায়, কোথাও কোনো উন্নতি হয়নি। এই রোগের সবচেয়ে জটিল পরিস্থিতিতে সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। অথচ মাথাপিছু আইসিইউ সংখ্যায় বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। গত বছর দেশের ৪৭টি জেলায় সরকারি পর্যায়ে একটি আইসিইউ বেডও ছিল না। তার পর থেকে মাত্র পাঁচটি জেলায় নতুন করে আইসিইউ বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।