করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ক্যাটাগরি ভাগ করে লকডাউন এবং লকডাউনে শ্রমজীবীদের জন্য এক মাসের খাদ্য ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। 

নেতারা বলেছেন, লকডাউনে বিভিন্ন দেশে শ্রমজীবীদের জন্য খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা দিলেও এ দেশে সেটা করা হয়নি। ফলে লকডাউন তামাশায় পরিগণিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ১ লাখ করোনা টেস্ট, বিনামূল্যে করোনা চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা, নিরবচ্ছিন্ন অপিজেন সরবরাহ এবং লকডাউনে শ্রমজীবীদের জন্য এক মাসের খাদ্য ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ কাফি রতন, বাসদের (মার্কসবাদী) নেতা মানস নন্দী, ইউসিএলবি নেতা নজরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক প্রমুখ। পরিচালনা করেন বাম জোট ঢাকা নগরের সমন্বয়ক ও বাসদের নেতা খালেকুজ্জামান লিপন। উপস্থিত ছিলেন বাসদের নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আকবর খান, বাসদের (মার্কসবাদী) ফখরুদ্দিন কবীর আতিক, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের রুবেল শিকদার প্রমুখ।

নেতারা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সমন্বয়হীনতা ও সীমাহীন দুর্নীতি-লুটপাট করোনায় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এই দুর্নীতি বন্ধ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তারা বলেন, করোনার ভ্যাকসিন নিয়েও সরকারের সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হয়েছে। একটি মাত্র উৎসের ওপর নির্ভর করা মোটেও সমীচীন হয়নি। ভারত থেকে শিক্ষা নিয়ে সব হাসপাতালে অক্সিজেন প্লান্ট বসিয়ে নিরবচ্ছিন্ন অপিজেন সরবরাহের দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, না হলে আমাদেরও সমূহ বিপদে পড়তে হবে।

বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দায়ী এস আলম গ্রুপের মালিক ও পুলিশের শাস্তি এবং নিহতদের আজীবনের আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ ও আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবি জানান নেতারা।

বাংলাদেশ সীমান্তে স্থলবন্দরে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকের ড্রাইভার-হেলপারদের সীমান্ত এলাকায় অবাধ চলাচলে করোনার ভারতীয় নতুন ভেরিয়েন্ট বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়ে তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার দাবি জানান নেতারা। তারা বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতামত সাপেক্ষে প্রয়োজনে দুই সপ্তাহ স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনও বন্ধ করা যায় কিনা- সেটাও বিবেচনা করতে হবে।কলেজছাত্রী মুনিয়ার মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন ও বিচার দাবি করেন নেতারা।

খুলনা ব্যুরো জানায়, সকাল ১১টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের মানববন্ধন করার কথা থাকলেও পুলিশ বাধা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল। বক্তব্য দেন সিপিবি কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা সভাপতি ডা. মনোজ দাশ, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এ রশীদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক এম এম রুহুল আমীন, বাসদ খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নান্টু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সদস্য ও খুলনা জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হক খান, সিপিবি খুলনা মহানগর সভাপতি এইচএম শাহাদাৎ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা সভাপতি আব্দুল করিম, টিইউসি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম চন্দন, যুব ইউনিয়ন খুলনা মহানগর সভাপতি আফজাল হোসেন রাজু, ছাত্র ফেডারেশন খুলনা মহানগর আহ্বায়ক আল আমিন শেখ প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাসদ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বিমল কান্তি দাস, বাসদ জেলা ফোরামের সদস্য সেলিম মাহমুদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত টিপু, জেলার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রাশিদা আক্তার, গণসংহতি আন্দোলনের জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন।



মন্তব্য করুন