করোনা পরিস্থিতিতে অমানবিক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে শ্রমিকদের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। 

দলটি বলেছে, সরকারসহ শাসকশ্রেণি শ্রমিকদের তাদের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বেঁধে রাখতে চায়। শ্রমিকদের বাঁচার ন্যায্য আন্দোলনকে তারা ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে পুলিশ বা মাস্তান দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করে। শ্রমদাসত্বের জোয়াল ভেঙে অধিকার ও মুক্তি অর্জনে শ্রমজীবী-মেহনতিদের রাজপথের সংগ্রামী ঐক্য আরও জোরদার করতে হবে। 

শুক্রবার বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মহান মে দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশে করোনা লকডাউনে শ্রমজীবীদের জীবনমান আরও শোচনীয় হয়েছে। নতুন করে তিন কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। পাটকল-চিনিকল বন্ধ করায় লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারী এখন বেকার। শ্রমিক-মেহনতিদের ঘরে ঘরে হাহাকার। তাদের জন্য বরাদ্দ করা যৎসামান্য টাকা নিয়ে চলছে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি আর দলীয়করণ। ভোটের অধিকার না থাকায় গরিব শ্রমজীবীরা আরও নিঃস্ব ও ক্ষমতাহীন হয়েছে।

শ্রমিকশ্রেণির আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের শ্রমিকশ্রেণিসহ শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, করোনার এই দুর্যোগেও শ্রমিক-মেহনতি মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদনের চাকা অব্যাহত রেখেছে। অথচ তাদের জীবন ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ হয়নি। সরকার ও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দেওয়া ওয়াদা রাখেনি। লকডাউনে তিন-চার মাইল হেঁটেই তাদের অধিকাংশকে কারখানায় আসতে হয়। তাদের নূ্যনতম ঝুঁকিভাতাও দেওয়া হয়নি।

সাইফুল হক বলেন, সরকার ও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের উৎপাদন যন্ত্রের বেশি মনে করে না। শ্রমিকদের তারা কেবল উৎপাদন বাড়াতে বলেন। কিন্তু তাদের ন্যূতম ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারসহ গণতান্ত্রিক ও মানবিক অধিকার দেয় না। 'শ্রমিক-মালিক ভাই ভাই' বলে তারা মুক্তি অর্জনে শ্রমিকদের শ্রেণিচেতনা ও শ্রেণি ঐক্যকে দুর্বল ও বিভ্রান্ত করতে চায়।