নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না অভিযোগ করে বলেছেন, ‘গত তিন মাসে একজন মানুষ সরকারের ত্রাণ থেকে চাল পেয়েছে আড়াই কেজি আর নগদ পেয়েছে ২০ টাকা। এই নিয়ে আবার সরকার গলাবাজি করে। সরকার ত্রাণের নামে গরিব অসহায় মেহনতী মানুষদের সঙ্গে তামাশা করছে। একটু লজ্জাও করে না ওদের। এগুলোও তো সত্যিকারের অসহায়দের কাছে পৌঁছেনি। ওই চোরের দল যতদিন ক্ষমতায় আছে, ততদিন কারো ভাগ্যে কিছু জুটবে না। ৫০ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়ার যে ঘোষণা খোদ প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন, সেই টাকাও করোনার এই ১৪ মাসে বিতরণ করা হয়নি।’

রোববার রিকশাচালকদের ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন। মান্না বলেন, ‘এই বছর যেসব সরকারি সাহায্যের ঘোষণা এসেছে, তা আরো হাস্যকর। সেই সাহায্যও এখনো অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছেনি। ওরা ত্রাণ দিতে পারে না, মানুষের একবেলার খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে না কিন্তু পেটের দায়ে রাস্তায় বের হওয়া অসহায় রিকশাচালকদের রিকশাগুলো উল্টে দেয়, ভেঙ্গে দেয়, ভাগাড়ে পাঠায়। আর এসবের বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলা দেয়, রিমান্ডে নেয়, রিমান্ডে নির্যাতন করে মেরে ফেলে। শনিবারও ফরিদপুরে একজন গরুর খামারিকে রিমান্ডে নিয়ে মেরে ফেলেছে। তার আগে বাঁশখালীতে শ্রমিকদের উপর নির্বিচারে গুলি করে ৬ জনকে মেরে উল্টো তাদের উপরই মামলা দিয়েছে।’

সরকারের উদ্দেশে মান্না বলেন, ‘করোনার এই মহা বিপর্যয়ের মধ্যে অন্তত কেবল ক্ষমতা বাঁচানো আর লুটপাটের ধান্দা বাদ দেন। অবিলম্বে দেশের ২ কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারকে ১০ হাজার করে নগদ টাকা প্রদান করুন। আর সেনাবাহিনীকে দিয়ে সেই তালিকা তৈরি করুন। আপনার দলের তথাকথিত জন প্রতিনিধিদের দিয়ে নয়। উন্নয়নের ফুলঝুরি ফুটিয়ে লাভ নেই। উন্নয়নের নামে আপনাদের লুটপাটের কথা সবাই জানে। বিপর্যয়ের মধ্যে মানুষ বাঁচানোর চেয়ে বড় কোন উন্নয়ন প্রকল্প হতে পারে না। আর যদি তা না করা হয়, তাহলে আগেই বলেছি এই রোজার মধ্যে পারি আর রোজার পরে পারি দেশের মানুষকে বাঁচাতে, দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে আপনাদের সাথে পাঞ্জা লড়ব।’

ডাকসু’র দুইবারের ভিপি বলেন, এই অত্যাচার, অনাচারের বিরুদ্ধে মানুষ জাগতে শুরু করেছে। যেকোন সময় গণ বিস্ফোরণ হবে। সেদিন জনগণ এই হৃদয়হীন, ভোট ডাকাত, অবৈধ, স্বৈরাচার সরকারকে টেনে হিঁচড়ে গদি থেকে নামাবে।

ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রিকশাশ্রমিক ঐক্যের সভাপতি আব্দুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য করুন