আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারের সবকিছুতে দোষ-ত্রুটি খুঁজে বের করা বিএনপির মজ্জাগত স্বভাবে পরিণত হয়েছে। বিএনপি নেতারা পূণিমার আলো ঝলমলে রাতেও অমাবশ্যার অন্ধকার দেখতে পান। অনবরত মিথ্যাচারই এখন বিএনপির একমাত্র অস্ত্র।

মঙ্গলবার সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, করোনা মহামারিতে শেখ হাসিনার সরকার দিনরাত করোনাপীড়িত মানুষের চিকিৎসা, সংত্রক্রমণ রোধ ও অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। শ্রমিকদের কর্মসংস্থান অব্যাহত রেখে কর্মহীনদের আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। অথচ সরকারের কোনো উদ্যোগই বিএনপির চোখে পড়ে না। এই সংকটকালে জনগণের জীবন ও জীবিকার মাঝে ভারসাম্য তৈরিতে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা না করে, তারা তোতা পাখির মত শেখানো বুলি অবিরাম আওড়িয়ে যাচ্ছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলা বিএনপির মুখে শোভা পায় না। কারণ তারাই ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের কলংকিত অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। মাগুরা ও ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে জালিয়াতির কথা মানুষ এখনো ভুলে যায়নি। বিএনপির আমলে সকাল ১০টার মধ্যেই ভোট প্রদান শেষ করে দেওয়া হতো। তখন চট্টগ্রামের একটি কেন্দ্রেও ভোট গণনার আগেই চূডান্ত ফলাফল রেডিও ও টিভিতে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনব্যবস্থাকে দলীয়করণ করার রেকর্ডেও বিএনপি চ্যাম্পিয়ন। তারা এক কোটি সোয়া লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে আজিজ মার্কা প্রহসনের নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। যার কারণে দেশে এক এগারোর মত অবস্থা তৈরি হয়। কাজেই বিএনপির মুখে নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার বুলি- ‘ভুতের মুখে রাম রাম’ ধ্বনির মতই।

‘সরকার গণমাধ্যমকে নিজের মত করে নিয়েছে’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, গণমাধ্যমের ওপর সরকারের যদি নিয়ন্ত্রনই থাকবে, তাহলে বিএনপি নেতারা প্রতিদিনই সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার আর মিথ্যাচার করেন কীভাবে? দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম আছে বলেই আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ বিএনপি এখনও টিকে আছে। বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ছত্রিশ লাখ অসহায় কর্মহীন ও খেটে খাওয়া নিন্মআয়ের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ এবং খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বা দলীয় নেতাকর্মীদের আত্মীয়-স্বজন দেখে নয়, বরং নিন্মআয়ের খেটে খাওয়া পরিবারের তালিকা তৈরি এবং যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এসব সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। মুখ দেখে সাহায্য দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, নগদ অর্থ ও খাদ্যসহায়তা এবার যেন কোনোভাবেই বেহাতে না যায়- সে ব্যাপারেও ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা বিতরণে কেউ কোনো অপকর্ম ও অনিয়ম করলে তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।

মন্তব্য করুন