করোনাকালে নানামুখী সংকটে পড়েছেন অনেকে। কেউ কাজ হারিয়েছেন। কারও উপার্জনও কমে গেছে। নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ আছেন সবচেয়ে বিপদে। আবার অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছেন। মহামারীতে মানুষের পাশে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে কাজ এগিয়ে এসেছেন কাজী ফরিদুল হক হ্যাপী। শাহ আলী, দারুস সালাম, টোলারবাগ, গাবতলীসহ মিরপুরের একটি বড় এলাকাজুড়ে 'মানবতার ডাকঘর' নামে বাক্স খুলে সেখানকার বিপদগ্রস্ত মানুষের কী কী প্রয়োজন তা জানার চেষ্টা করছেন। 

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হটলাইন চালু করেও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছেন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের সবজিও বিতরণ করেন আরও কয়েকশ' পরিবারের মাঝে।

দারুস থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হ্যাপী সমকালকে বলেন, গত বছর করোনার প্রথম দিকে মিরপুরের টোলারবাগ ছিল হটস্পট। ভয়-আতঙ্কে তখন অনেকে মানুষকে সহায়তা করতে রাস্তায় নামতে চাইত না। তখনও টিম করে এলাকার মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ছাড়াও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে এসেছি। রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানবতার ডাকঘর নামে কাঠের বাক্স বসেয়েছি। যাদের ত্রাণ দরকার তারা সেখানে মোবাইল নম্বর ও বাসার ঠিকানা রেখে যেত। এরপর গাড়িতে গাড়িতে তাদের বাসার সামনে গিয়ে ত্রাণ পৌছে দেই। অনেকের ছোট্ট শিশুর জন্য দুধ কেনার টাকাও নেই। শিশুদের জন্য দুধের ব্যবস্থা করি।

হ্যাপি আরও বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসার পর একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে মাঠে নেমেছি। প্রতিটি পরিবারকে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি আলু, এক কেজি তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে প্যাকেট তৈরি করা হয়েছে। এই ধাপে তিন হাজারের বেশি প্যাকেট বিতরণ সম্পন্ন। ঈদের ২-৩ দিন আগে কয়েক হাজার পরিবারের মাঝে সেমাই, চিনি, দুধসহ আরও অনেক কিছু বিতরণ করা হবে। এমন অনেক পরিবার আছে যারা আত্মসম্মানের কারণে প্রকাশ্যে কিছু সহায়তা চাইতে লজ্জা পান। কোনো না কোনো মাধ্যমে এমন পরিবারের খোঁজ পাওয়ার পর গোপনে তাদের সহায়তা করা হচ্ছে। যতদিন এই সংকট থাকবে সাধ্য মতো মানুষের পাশে দাঁড়াব।

মন্তব্য করুন