আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারের কাছে ১০ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। বৃহস্পতিবার বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এক বিবৃতিতে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

প্রস্তাবনায় রয়েছে করোনা উত্তরণে স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, খাদ্য-কর্মসংস্থান, কৃষি ও গ্রামীণ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান, প্রতিটি নাগরিকের জন্য গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলে রাষ্ট্রীয়ভাবে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন, কৃষি ও গ্রামীণ খাতের পুনরুজ্জীবন ও উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করতে উন্নয়ন বাজেটের নূ্যনতম ৩০ শতাংশ বরাদ্দ প্রদান, মাঝারি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক শিল্প উদ্যোক্তাদের পরিকল্পিতভাবে প্রণোদনা প্রদান এবং বেকারদের কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান।

এ ছাড়া দেশের নিম্নআয়ের শ্রমজীবী-মেহনতি-দিনমজুর ও গরিব আড়াই কোটি পরিবারকে আগামী ছয় মাস খাদ্য ও নগদ অর্থ প্রদানে বাজেটে বরাদ্দ রাখা, রাজস্ব্ব ব্যয় কমানো, বিলাসদ্রব্যের আমদানি ও রাষ্ট্রীয় অপচয় বন্ধ, সামরিক খাতসহ অনুৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ কমিয়ে আনা, কালো টাকা সাদা করার নীতি বাতিল করে কালো টাকা, অপ্রদর্শিত অর্থ-সম্পদ ও বিদেশে পাচার করা টাকা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, মেগা প্রকল্পে জবাবদিহিবিহীন ব্যয়বৃদ্ধির ধারা কঠোরভাবে বন্ধ করা এবং পরিবহন ভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, বাড়িভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রস্তাবনায় বলা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, করোনা মহামারিজনিত পরিস্থিতিতে 'জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা' গড়ে তোলাকে গুরুত্ব দিয়ে গোটা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। সেইসঙ্গে 'তেলা মাথায় তেল দেওয়া'র নীতি পরিহার করে বাজেটে লুটেরা পুঁজিপতিদের অপ্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদান বন্ধ করতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।