ওয়াসা বোর্ডের ভার্চুয়াল সভায় পানির দাম পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। 

নেতারা বলেছেন, ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা অবস্থায় ভার্চুয়ালি সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নিয়ে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান পানির দাম বাড়িয়েছেন, যা স্বেচ্ছাচারিতার চরম প্রকাশ। দুর্নীতির বিষবৃক্ষ এমডি তাকসিমকে অপসারণ না করে ওয়াসাকে জনগণের সেবার প্রতিষ্ঠানে ফেরানো যাবে না। তাই পানির দাম বৃদ্ধি নয়, দুর্নীতিবাজ তাকসিমকে অপসারণ করতে হবে। পদ্মা, ভাকুর্তাসহ ওয়াসার মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনের সামনে পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাসদ ঢাকা মহানগর শাখা আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, শ্রমিক নেতা আবদুর রাজ্জাক, নগর নেতা জুলফিকার আলী, খালেকুজ্জামান লিপন এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি আল কাদেরী জয়।

নেতারা বলেন, দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে করোনা মহামারিতে দেশের শ্রমজীবী-মেহনতি, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ চরম সংকটে দিনাতিপাত করছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় সংকোচনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের শামিল। বর্তমান সরকার গত ১৩ বছরে ১৪ বার পানির দাম বৃদ্ধি করেছে। ওয়াসা অজুহাত দেয়- তাদের আইনে আছে বছরে একবার পাঁচ শতাংশ দাম বাড়াতে পারবে। কিন্তু আইন থাকলেই কী জনগণের এই সংকটের সময় দাম বাড়াতে হবে?

সমাবেশ থেকে পানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ১৫ দিন ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় সমাবেশ ও গণসংযোগের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ সময়ের মধ্যে দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে আগামী ১৪ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।