গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‌‘বর্তমান এই অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে হলে ছোট সব দলকে এক হতে হবে। প্রয়োজনে নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখেই এককত্রিত হতে পারেন। অথবা যুগপৎ আন্দোলনের জন্য হলেও এক হতে হবে। তাহলে মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।’

শনিবার ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেজর হায়দার মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন। ‘গণতন্ত্র ও গণমানুষের সরকার প্রতিষ্ঠা কোন পথে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘রাজনীতির জন্য বা জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে জীবন দেওয়ার জন্য ১০০ কর্মী এগিয়ে আসলে আজকের অবস্থার পরিবর্তন হবে। এই নেতাকর্মীদের দায়িত্ব নিতে হবে। প্রয়োজনে সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে একটি তহবিল গঠন করতে হবে। যেখান থেকে হামলা মামলা, চিকিৎসা ও পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া যায়। মন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুতে মন্ত্রণালয়ের তহবিল ব্যবহার করে সকল জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দেওয়া একটি দূর্নীতি। এই দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা দরকার।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এই সরকার চলে গেলে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য একটি ব্যবস্থা লাগবে। এই ধরণের একটি ব্যবস্থা আমাদের সংবিধানে ছিলো। কিন্তু সেটি তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সরকারের অধীনে কোনো স্বচ্ছ, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। ফলে এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার জন্য একসাথে বা যুগপৎ বা অন্য যেকোন উপায়ে একসাথে লড়াই করতে হবে।’

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দিয়ে তাদের অংশে পরিণত করেছেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিরা সুবিধা এবং ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে তারা নিজেরাই চেষ্টা করছেন এই শাসন টিকিয়ে রাখতে।’

বিপ্লবী ওর্য়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সরকারকে আন্দোলনে পরাজিত করতে না পারলে ক্ষমতা অর্জন তো দূরের কথা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়াও সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাক আহমেদ এবং গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান রুবেল প্রমুখ।