অবিলম্বে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, তাকে হেনস্তাকারী আমলা-পুলিশের শাস্তি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী-সচিবের অপসারণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। পাশাপাশি বাক-ব্যক্তি-সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়ে নেতারা বলেছেন, বর্তমান সরকারের ফ্যাসিবাদী নির্যাতন-নিপীড়ন ও কালাকানুন বাতিলের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক, সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ। পরিচালনা করেন মহানগর বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

নেতারা বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম দুর্নীতিবাজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আমলার প্রতিহিংসার শিকার। তাকে ঔপনিবেশিক আইনে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। দেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের ২৬ ধারার সঙ্গেও অফিসিয়াল সিক্রেটস আইন সাংঘর্ষিক।

তারা বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর আমলা, প্রশাসন ও পুলিশকে ব্যবহার করে দিনের ভোট রাতে এবং ভোট ডাকাতির মাধ্যমে এই সরকার ক্ষমতায় বসেছে। ফলে আমলা-পুলিশের ওপর নির্ভরশীল সরকার জনগণের যে কোনো প্রতিবাদকে ভয় পায়। সামান্য কার্টুন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক লেখাও সহ্য করতে পারে না। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দমন করতেই সরকার কালাকানুন প্রণয়ন ও ব্যবহার করছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

মন্তব্য করুন