মহামারির এই সময়ে নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে এবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মকে বেছে নিয়েছে বিএনপি। সারাদেশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই বৈঠক করছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবল উজ্জীবিত করা হচ্ছে বলে দলের দায়িত্বশীল নেতারা মনে করেন। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা জানান, কভিড-১৯-এর জেরে দীর্ঘদিন ধরে সব দলেরই রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি স্থগিত রয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতিতেই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সবসময় চাঙ্গা ও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত রাখতে হয়। কিন্তু তার কোনোটাই হচ্ছিল না। এজন্য দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষার জন্য এবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে বেছে নিয়েছে বিএনপি। পর্যায়ক্রমে সারাদেশের ৮১টি সাংগঠনিক কমিটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

ইতোমধ্যেই যশোর, নড়াইল, ভোলা, পটুয়াখালী, কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, ঢাকা জেলা, নারায়ণগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, শরীয়তপুর এবং গোপালগঞ্জ জেলা, মানিকগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জ জেলাসহ বেশ কয়েকটি সাংগঠনিক ইউনিট কমিটির নেতাদের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতারা ভার্চুয়াল সভা করেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাদের কর্মসূচি চলছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রত্যেক জেলা ইউনিটের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের জীবন, দর্শন, রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ পাচ্ছেন।

বিএনপির এক সিনিয়র নেতা জানান, বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নতুনত্ব আনা হচ্ছে। মাঠের কর্মসূচির পাশাপাশি দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ড বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জিয়াউর রহমানের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি হওয়ার দিন ৩ জুন স্মরণে প্রথমবারের মতো কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। এ ছাড়া জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে দলটি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখতে, তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার পরিকল্পনায় প্রতিদিনই দুই-একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব সভায় বক্তব্য রাখার জন্য, নেতাকর্মীদের জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শ বিষয়ে বলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার একাধারে চারটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলার নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার সভায় ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আলোচনা সভায় ছিলেন ড. আব্দুল মঈন খান এবং সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার বিএনপির আলোচনা সভায় ছিলেন নজরুল ইসলাম খান।

বিএনআরসির কার্যক্রম জোরদার: দলের গবেষণা ও গণসংযোগের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল খালেদা জিয়া বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশন-বিএনআরসির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলের গঠনতন্ত্রে এই শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিএনআরসির দুটি শাখা রয়েছে রিসার্চ অরগানাইজেশন ও কমিউনিকেশন উইং নামে। রিসার্চ অরগানাইজেশনের মাধ্যমে ব্লগিং, ইউটিউব, লাইভ শেয়ারিং ইত্যাদি করা হয়।

বর্তমানে বিএনআরসির উদ্যোগে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা, লাইভ টকশো আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব আলোচনার মাধ্যমেও দলের আদর্শ, নেতাকর্মীদের চাওয়া-পাওয়া, দেশের বর্তমান অবস্থা, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে করণীয়বিষয়ক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। বিএনআরসি পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আধুনিক বিশ্বে যোগাযোগের অপরিহার্যতা রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে জনগণের সম্পৃক্ততা অনেক বেশি, যা অনেক সময় মূল গণমাধ্যমের চেয়েও বেশি।

মন্তব্য করুন