এনআইডি নিবন্ধন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ২০২৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে কারচুপি করার সরকারের নীলনকশার অংশ বলে মনে করছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। নেতারা বলেছেন, ২০১৪ সালে একদলীয় নির্বাচন এবং ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে করে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। দুর্নীতি-দুঃশাসনে জনসমর্থন শূন্যের কোঠায় চলে যাওয়ায় সরকার অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাহস পায় না। একই পন্থা বারবার কার্যকর হয় না- এমন চিন্তা থেকে নতুন ষড়যন্ত্রের নীলনকশা করছে তারা। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিতে চাইছে সরকার।

সোমবার রাজধানীর তোপখানা রোডের বাসদ কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের দিনব্যাপী সভায় নেতারা এসব কথা বলেন। এ সময় এনআইডি নিবন্ধনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন থেকে না সরানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সরকারের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সব গণতন্ত্রমনা দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বাম জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম, সাইফুল হক, জোনোয়েদ সাকি, মোশারফ হোসেন নান্নু, মোশরেফা মিশু, ইকবাল কবীর জাহিদ, হামিদুল হক, সাজ্জাদ জহির চন্দন, রাজেকুজ্জামান রতন, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, মানস নন্দী, ফখরুদ্দিন কবীর আতিক, বাচ্চু ভূঁইয়া, মনিরুদ্দিন পাপ্পু, আকবর খান, শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

সভার প্রস্তাবে বলা হয়, করোনা সংকট মোকাবিলায় উপর্যুপরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে দেশ ও জনগণকে গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। দুর্নীতি-লুটপাট-দুঃশাসন করোনা থেকেও ভয়াবহ মহামারিরূপে দেখা দিয়েছে। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারকে নির্বাসনে পাঠিয়ে বিরোধী মত দমনে কালো আইন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, সাংবাদিক, লেখক ও শিক্ষকসহ নাগরিকের নামে হয়রানিমূলক মামলা-নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। দেশকে একটি আমলাতন্ত্র ও পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে এই সরকার।

সভার অপর এক প্রস্তাবে বাজেটকে 'গণবিরোধী বাজেট' আখ্যা দিয়ে বাজেট প্রত্যাখ্যান করা হয়। একই সঙ্গে উৎপানদশীল ও গণমুখী খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ দ্রুত সব মানুষকে করোনার টিকার নিশ্চয়তা দেওয়ার দিকনির্দেশনাসহ বাজেট প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

সভায় বাজেট প্রত্যাখ্যান করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষায় বাজেট বরাদ্দের দাবিতে আগামী ১০ জুন সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ওইদিন ঢাকায় সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য করুন