বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে এখন দুই শত্রু। একদিকে আওয়ামী লীগ আরেকদিকে করোনা। এই দুই দানব আমাদের সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে। সেজন্য আমরা বাধাগ্রস্থ হচ্ছি। কিন্তু এটাকে তো আমাদের জয় করতে হবে। এর জন্য সবাইকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথের আন্দোলন করতে হবে।

বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বইমেলায় তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ বইমেলার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ''পৃথিবীর সব বড় বড় বিজয়, বড় বড় বিপ্লব, বড় বড় অর্জন কিন্তু একটা শ্লোগানে- 'আমরা করব জয়'। এই শ্লোগান দিয়েই আমাদের জয় করতে হবে। দেশে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।''

নেতাকর্মীদের সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'ভাই, শটকাট কোনো রাস্তা নেই। একটা যুদ্ধ যখন করতে হবে সেই যুদ্ধে আপনাকে পুরোপুরিভাবে এগিয়ে যেতে হবে। যুদ্ধ করতেই হবে। কেউ আপনাদের এমনি এমনি ক্ষমতা দিয়ে দেবে না। এই সরকার একেবারে স্বৈরশাসক বনে গেছে, কর্তৃত্ববাদী বনে গেছে। এই সরকার জানে যে, নির্বাচন করে তারা কোনো দিন জিততে পারবে না। সুতরাং নির্বাচন নির্বাচন খেলা করবে, নির্বাচনের নাটক করবে, তামাশা করবে। কিন্তু সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে ওরা নিজেদের জয়ী করবে। যেমন ২০১৮ সালে করেছে, যেমন ২০১৪ সালে করেছে। তাই মেধা ও প্রজ্ঞার লড়াইয়ের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে আনতে হবে।'

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'আমি তাদের কথার কী উত্তর দেবো! তাদের কথায় ঘোড়াও হাসে। কী বলেন না বলেন তা তারা নিজেরাও জানেন না। আর মিথ্যা বলতে বলতে এমন একটা জায়গায় চলে গেছেন যে গোয়েবেলসিয় প্রচারও তাদের কাছে হার মানবে। তথ্যমন্ত্রী তো অনর্গল মিথ্যা বলেই যাচ্ছেন। অবলীলায় খুব শান্ত মেজাজে তিনি এসব করেন। মিথ্যা প্রচার করতে করতে তারা আজ স্বাধীনতার ৫০ বছরের ইতিহাসকে বিকৃত করছেন।'

এ সময় দলের নেতা-কর্মীদের জিয়াউর রহমানের জীবনকর্মের ওপর লেখা বইগুলো বেশি করে পড়ার পরামর্শ দেন মির্জা ফখরুল।

জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের সভাপতিত্বে পাঠাগারের ও সাধারণ সম্পাদক মো. জহির দিপ্তীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল।

অনুষ্ঠানে জিয়া স্মৃতি পরিষদের শহিদুল ইসলাম, সাঈদ উদ জামান, সঞ্জয় দে রিপন, তেজগাঁও কলেজের বেলাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।