নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, করোনাকালেও মানুষের স্বাস্থ্যের প্রতি, জীবন-জীবিকার প্রতি সরকার অবহেলা করছে। আমাদের সব আশা-আকাঙ্ক্ষাকে হত্যা করে তারা দেশ চালাচ্ছে। এরকম সরকারের হাতে দেশের সাড়ে ১৭ কোটি মানুষ কখনও নিরাপদ নয়। এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মানববন্ধনে মাহমুদুর রহমান মান্না এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতিবাজদের বিচারের দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

দেশের সব কিছু চালু আছে, শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু নেই- উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ১৪ মাস ধরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খোলেনি। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ভেবে দেশের সব নাগরিক উদ্বিগ্ন। শিক্ষক-ছাত্র-অভিভাবক সবাই সোচ্চার কণ্ঠে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি করছেন। যদি বাস চলে, ট্রেন চলে, স্টিমার চলে, সব কলকারখানা, অফিস-আদালত চলে, তাহলে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিয়ে কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালানো যাবে না?

মান্না বলেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন জেলে থাকতে হয়েছে। তাকে ১৭ বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর আমাদের দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়। এই পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ, দলের পক্ষ থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, তাকে বিদেশে নিয়ে যান। অথচ ওরা মামলা করেছে; হাইকোর্ট বলেছেন, খালেদা জিয়া কবে জন্মগ্রহণ করেছেন তার সার্টিফিকেট জমা দেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমার সার্টিফিকেটের জন্মতারিখ আসল জন্মতারিখ কিনা তা জানি না। আমাদের সময়ে স্কুলে ভর্তি হতে গেলে, হেড মাস্টার সাহেব জিজ্ঞাসা করতেন, জন্ম কবে? তারিখ পছন্দ না হলে বলতেন ওর জন্ম অত তারিখে হবে। স্কুল থেকে যা লিখে দেওয়া হয়, সেভাবেই জন্মতারিখ থাকে। তারপরেও এর ওপরে মামলা! হাইকোর্ট তাতে রায়ও দেন!

তিনি বলেন, দেশের মানুষের মনে হয় না, স্বাস্থ্য খাত বলে কিছু একটা আছে। যে রোগই হোক না কেন, প্রাইভেট হাসপাতালে কোনো রোগী ঢুকলে তিনি এবং তার পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে যান। এই করোনাকালেও সীমান্তের তিনটি জেলাতে এখন পর্যন্ত কোনো আইসিইউ ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়নি।

আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিলকিস ইসলাম, ফরিদ উদ্দিন, জাগপার খোন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ এতে বক্তব্য দেন।