আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এ দেশের রাজনীতিতে হিংস্রতা আর ষড়যন্ত্রের হোতা বিএনপি। সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি দানবীয় আচরণ করছে। তবে শত উস্কানির বিপরীতে শেখ হাসিনার সরকার অত্যন্ত সহনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদারতা দেখে ভাববেন না, এটা সরকারের দুর্বলতা।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় তার সরকারি বাসভবনে সম-সাময়িক বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার কর্তৃত্ববাদী নয়, কারো ওপর হিংস্র আচরণও করেনি। বরং প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলের নানা উস্কানির মুখে অত্যন্ত সহনশীলতা ও ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।

'আওয়ামী লীগ হিংস্র'- বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, যাদের হাতে ২১ হাজার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী হত্যার শিকার হয়েছে। তারাই আজ আওয়ামী লীগকে হিংস্রতার কথা বলে!

তিনি বলেন, বিএনপি দেশে স্থিতিশীলতা চায় না। তারা চায় দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে। আন্দোলনের নামে জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট করাই বিএনপির রাজনীতি। জনগণের প্রতি রাজনৈতিক দল হিসেবে যে দায়িত্বশীলতা রয়েছে, সেটা পালনে বিএনপি অনেক আগেই ব্যর্থ হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে পারবে না বুঝতে পেরেই বিএনপি যে নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে, তা কারো অজানা নয়। নির্বাচন ছাড়া সরকার গঠনের আর কোনো বিকল্প পথ নেই। এটাই সংবিধান সম্মত পথ। জনগণ চাইলেই নির্বাচিত হবেন এবং সরকার গঠন করবেন। আওয়ামী লীগ জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে বলেই জনগণের প্রতি আস্থাশীল।

এর আগে সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বোর্ড সভায় তার সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় ঢাকা মহানগরীতে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও দুই সিটি করপোরেশনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, উন্নয়ন-অর্জনে শেখ হাসিনা সারাবিশ্ব ও বাংলাদেশকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ঢাকা শহর কেন পিছিয়ে থাকবে? এ বিষয়ে ঢাকার দুই মেয়রকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য ডিটিসিএ'র প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ইনার রিং রোডের ইস্টার্ন বাইপাস এবং ওয়েস্টার্ন অংশের হালনাগাদকরণে ডিটিসিএ'র মাধ্যমে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্প প্রস্তাব চূড়ান্ত করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ডিটিসিএ প্রদত্ত বহুতল ভবনের জন্য ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স ছাড়পত্র গ্রহণের বিষয়টি আইনগত বিধি-বিধানের আওতায় রাজউকের সঙ্গে আলোচনা করে নিষ্পত্তি করতে হবে। সমন্বয়হীনভাবে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় সড়ক খনন করা যাবে না।

ডিটিসিএ'র বোর্ড সভায় ভার্চুয়ালি আরও যুক্ত হন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভি, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এবং ডিটিসিএ'র নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ডিএমপি কমিশনার।

বিষয় : আওয়ামী লীগ ওবায়দুল কাদের বিএনপি ষড়যন্ত্র

মন্তব্য করুন