জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি বলেছে, সরকার লোক দেখানো লকডাউন ঘোষণাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। তবে ব্যাপক পরীক্ষা, রোগী শনাক্তকরণ, আইসোলেশন, কন্টাক্ট ট্রেসিং এবং কোয়ারেন্টাইনের কোনো ব্যবস্থা না করে শুধু লকডাউনের নামে একমাত্র গণপরিবহন বন্ধ রাখা করোনা মোকাবিলায় মোটেই সহায়ক হচ্ছে না।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে মহামারি মোকাবিলায় ছয় দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরে তারা বলেন, করোনাভাইরাসের অতি বিস্তারের প্রেক্ষাপটে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। সরকারের কোনো পদক্ষেপই দূরদর্শিতার পরিচায়ক নহে।

তারা বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুও ঊর্ধ্বমুখী। করোনার ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে সারাদেশই এখন উচ্চ ঝুঁকিতে। ৫০টির বেশি জেলায় অতি উচ্চ সংক্রমণ রয়েছে বলে মত দিয়েছে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলেছে, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪০টিই সংক্রমণের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

জেএসডি নেতারা বলেন, অবিলম্বে করোনা মোকাবিলায় সম্মুখ যোদ্ধা, সাংবাদিক, জ্ঞান-বিজ্ঞান, মেধা ও প্রজ্ঞার অধিকারী সব পেশাজীবী, শ্রমজীবী ও কর্মজীবী অংশীজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিল গঠন করতে হবে। টিকা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য টিকা সংগ্রহের জন্য বহুমুখী উদ্যোগ এবং দেশে টিকা উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বহুমুখী দারিদ্র্যে জর্জরিত ছয় কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চাভিলাষী মেগা প্রকল্পের বরাদ্দ বাতিল করে স্বাস্থ্য ও খাদ্য খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।