প্রথমদিনের লকডাউনের মতো দ্বিতীয় দিনেও রাজশাহীতে কঠোর অবস্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। শুক্রবার সকাল থেকে রাজশাহী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও পাড়া মহল্লার গলিপথেও টহল দিচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। রাজশাহী সিটি করপোরেশনে দুই শিফটে জেলা প্রশাসনের চারজন এবং ৯টি উপজেলায় ১৮ জন ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সিটি করপোরেশনে ১৬ জনের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে, জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১২ হাজার ৯০০ টাকা।

শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকেই নগরীর রাস্তাঘাট ফাঁকা। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সরকারি অফিসের গাড়িও ছিল না রাস্তায়। দু’একটি রিকশা ও জরুরি পণ্যবাহী, অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল ছাড়া অন্য গাড়ি চোখে পড়েনি। কেউ পায়ে হেঁটে কিংবা মোটরসাইকেল, রিকশায় নগরীর রাস্তায় বের হলেও তাদেরকে পড়তে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের সদস্যদের জেরার মুখে। নগরীর প্রধান প্রধান ফটকগুলোতে বসানো হয়েছে পুলিশি চেকপোস্ট। তবে পাড়া-মহল্লার ভেতরে কোনো কোনো জায়গায় মানুষের সমাগম কিছুটা চোখে পড়েছে।

রাজশাহী নগরী ও জেলায় পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি টহল দিচ্ছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে রয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এদিকে শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে লকডাউনের সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নিতে সেখানে যান রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক। এসময় তার সঙ্গে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় তিনি বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। করোনার এই তাণ্ডব থেকে রক্ষা পেতে হলে অবশ্যই সকলকে ঘরে থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তিনি লকডাউন সফল করতে সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কাউছার হামিদ জানান, শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট দল ১৬টি মামলা দিয়েছে এবং ১২ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল আইনে (দণ্ডবিধি-১৮৬০, ২০১৮ সাল) মামলা দেওয়া হয়েছে।

লকডাউনের প্রথমদিন ৫০ জনের নামে মামলা দেওয়া হয় এবং ৬৬ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা আদায় করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।