সারাদেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত টেস্ট, চিকিৎসা ও টিকা প্রদানে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে দলটির নেতারা বলেছেন, করোনায় মানুষের মৃত্যুর দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। শনিবার বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক ভার্চুয়াল সভায় এমন মন্তব্য করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা।   

সভায় বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে মিথ্যা পরিসংখ্যান দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। যে পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম-যন্ত্রপাতি, আইসিইউ, ভেন্টিলেটর, নাজাল ক্যানুলা হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে বাস্তবে সরেজমিন গিয়ে দেখা যাচ্ছে সে পরিমাণ যন্ত্রপাতি দেয়া হয়নি। অথচ এজন্য কোনো কর্মকর্তার আজ পর্যন্ত শাস্তি হয়নি। এতে দুর্নীতি অনিয়ম ক্রমেই বেড়ে চলছে। সাতক্ষীরা ও বগুড়ায় ৭ জন করে ১৪ জন করোনা রোগী অক্সিজেন না পেয়ে মারা গেছে। এর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়, এমনকি সরকার এড়াতে পারে না।

বক্তারা বলেন, টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সরকার জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষায় তৎপর থেকেছে। শুধুমাত্র ভারতের উপর নির্ভরশীল থাকায় আজ টিকা প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যদি আগে থেকে চীন, রাশিয়াসহ অন্য দেশ থেকে টিকা ক্রয় এবং যৌথভাবে ট্রায়াল ও গবেষণায় মনোযোগ দিত তাহলে এতদিনে আমাদের জনসংখ্যার সিংহভাগকে টিকা দেয়া সম্ভব হতো। আন্তর্জাতিক টিকা বাণিজ্যের ফাঁদে পড়ে ভারতের মুখাপেক্ষী হয়ে চীনের টিকার ট্রায়াল দিতে না দেয়া ছিল সরকারের বিরাট ভুল। যা এখন মন্ত্রীদের বক্তব্যে বেরিয়ে আসছে।

বক্তারা বলেন, শুধু বিদেশ থেকে টিকা ক্রয় নয় সরকারের অদূরদর্শিতার কারণে দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল বায়োটেকের বঙ্গভ্যাক্স টিকা নিয়েও তুঘলকি কাণ্ড চলেছে। উচ্চ সংক্রমিত জেলায় জরুরি ভিত্তিতে ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি, হাসপাতালগুলোতে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা চালু, পর্যাপ্ত নাজাল ক্যানুলা, আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। বর্তমানে যে ৪৫ লাখ টিকা এসেছে এবং আসবে সেটা অতি সংক্রমিত জেলাগুলোতে বিতরণের দাবি জানানো হয়।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড মানস নন্দী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবীর জাহিদ, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদক কমরেড মনীর উদ্দিন পাপ্পু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি কমরেড হামিদুল হক, বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবি নেতা সাজ্জাদ জহির চন্দন, কাফী রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান, ইউসিএলবি সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণসংহতি আন্দোলনে সম্পাদক বাচ্চু ভুইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ।