রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, সরকারের ভ্রান্তনীতি, লুটপাট ও দুর্নীতিই পাটকল এবং পাটশিল্প বিনাশের মূল কারণ। লুটপাটের ফলেই পাটকলে লোকসান হচ্ছে। তাদের এই লোকসানের দায়ভার শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে পাটকলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাটকলের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ লুটেরাদের হাতে তুলে দিতে রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষীরা সর্বদা তৎপর রয়েছে। পাটকল বন্ধ করার এটিও অন্যতম কারণ।

'লুটেরা অর্থনীতির কবল থেকে জাতীয় সম্পদ ও শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় করণীয়' শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ। শুক্রবার রাতে অনলাইনে এ সভা হয়।

সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, পাটশিল্প ধ্বংস না করে সচল রাখলে দেশে বিশাল কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব ছিল। কারণ, পাটশিল্পে যে পরিমাণ উৎপাদন হয় এবং যে বিশাল সম্ভাবনা আছে তাতে এই শিল্পকে কেন্দ্র করে একটা পরিবেশবান্ধব শিল্পের ভিত্তি তৈরি হতে পারে বাংলাদেশে।

নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, টিইউসির সভাপতি সহীদুল্লাহ চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু ও নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব এস এ রশীদ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে একের পর এক কলমের খোঁচায় মানুষকে কর্মহীন বানানো বা রাস্তায় ফেলে দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে বৃহৎ কর্মসূচি হচ্ছে পাটশিল্প। এভাবে সুবিধাবঞ্চিতদের কর্মসংস্থান নাই করে দেওয়া হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, পাটকল-চিনিকলসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ জনগণের মালিকানায় আনতে গেলে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জনগণের বৃহত্তর ঐক্যের জাতীয় মঞ্চ গঠন করতে হবে।