কখনও ভবন ধসে, কখনও আগুনে পুড়ে- এভাবে শ্রমিক 'হত্যা' বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক হত্যার দায়ে কারখানা মালিক, সংশ্লিষ্ট কারখানা পরিদর্শকসহ দায়ীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন জোটের নেতারা।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাম জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এ দাবি জানান। সেজান জুস কারখানায় আগুনে পুড়ে ৫২ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় এ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। নেতারা বলেন, নিহত সব শ্রমিককে আইএলও কনভেশন ১২১ অনুয়ায়ী আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

তারা আরও বলেন, সরকারি ২৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন সাপেক্ষে কারখানা করার আইন থাকলেও সেজান জুসের ছয়তলা ভবন নির্মাণে কোনো বিল্ডিং কোড মানা হয়নি। অগ্নিনির্বাপণের জন্য ফায়ার সেফটির ব্যবস্থা ছিল না। জরুরি বহির্নির্গমনের জন্য ভবনে চারটি সিঁড়ি থাকার কথা থাকলেও সেখানে ছিল দুটি। গেট খোলা থাকার কথা থাকলেও তালাবন্ধ ছিল। নিয়ম ভেঙে কারখানা ভবনেই কেমিক্যালসহ দাহ্য পদার্থ গুদামজাত করা ছিল। শিশুশ্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও ১২ থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত শিশুদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের এই গণহত্যার দায়ে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।