রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে একাধিক ছিনতাইকারীকে আটকের পর নানা সূত্র ধরে উদ্ধার করা হয়েছে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের ছিনতাই হওয়া আইফোন। 

সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান ডিএমপি রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান।

গত ৩১ মে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে বের হয়ে বিজয় সরণির ট্রাফিক সিগন্যালের যানজটে আটকা পড়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানকে বহনকারী গাড়িটি। তখন গাড়ির গ্লাস খুলে আইফোনে কথা বলছিলেন মন্ত্রী। এ সময় হঠাৎ এক ছিনতাইকারী তার আইফোনটি ছিনিয়ে নেয়। 

এ ঘটনার পরপরই ‘পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের ব্যক্তিগত সহকারী কাফরুল থানায় একটি মামলা করেন। এ ঘটনার ৫০ দিন পর ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হল।

সাজ্জাদুর রহমান জানান, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের আইফোনটি উদ্ধারের পর ফোন চোরাই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন ছগির, সুমন মিয়া, জাকির, আরিফ ও জীবন। 

সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘আরিফের ল্যাপটপে থাকা ছবির সূত্র ধরে মুঠোফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’

সাজ্জাদুর রহমান জানান, গত ১২ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় একজনের ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে সগির ও সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসা করে জাকির নামের একজনের নাম জানা যায়। জাকিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরিফের নাম জানা যায়। পরে আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

আরিফের ল্যাপটপ অনুসন্ধান করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এর মুঠোফোনের একটি ছবি পাওয়া যায়। পরে আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জীবনের নাম পাওয়া যায়। আর জীবনকে গ্রেপ্তার করার পর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের চুরি হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। 

জীবনের কাছ থেকে আরও কয়েকটি চোরাই মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। 

পরিকল্পনামন্ত্রীর মুঠোফোনটি কে ছিনতাই করেছিল, এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা মন্ত্রীর মুঠোফোনটি উদ্ধারের পর আমরা মিরপুর বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা জানিয়েছে, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এর মুঠোফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজনকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় আমরা এখনো জানতে পারিনি। তবে আমরা ধারণা করছি, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের মুঠোফোন ছিনতাইয়ের সঙ্গে ছগির ও সুমন জড়িত ছিলেন।’