সরকারের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির কট্টর সমালোচনার মধ্যে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া টিকা নেওয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সমালোচনা করে আবার সেই টিকাই নিচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া, এটা ভালো!’

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ও করোনাসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার টিকা নেওয়া প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ এ মন্তব্য করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে আমরা দেখতে পেলাম, বেগম খালেদা জিয়াও টিকা নিচ্ছেন। তার দলের নেতারা এই টিকা নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিলেন আর সেই নেতারাই পরে টিকা নিয়েছিলেন। আজকে বেগম খালেদা জিয়াও টিকা নিচ্ছেন। এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।’

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘তিনি যেন টিকা গ্রহণ করে পুরোপুরি সুস্থ থাকেন, করোনা মহামারি থেকে মুক্ত থাকেন, সেটিই আমরা প্রত্যাশা করি, সেটিই আমরা বিধাতার কাছে প্রার্থনা করি।’

সোমবার বিকেলে রাজধানীর গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মডার্নার টিকা নিয়েছেন খালেদা জিয়া।

টিকা নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’ ছড়ানোয় বিএনপির ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন হাছান মাহমুদ।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ‘তবে আপনারা টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিলেন, এখন বেগম খালেদা জিয়াসহ সবাই যখন টিকা গ্রহণ করছেন, অতীতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য জাতির কাছে আপনাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে জনগণ মনে করে।’

টিকাদান কর্মসূচির সমালোচনা করেও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ‘বেশির ভাগই’ টিকা গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কেউ প্রথম ডোজ নিয়েছেন, কেউ কেউ দ্বিতীয় ডোজও নিয়েছেন, সরকারের কাছে সেই তালিকা আছে।’

তিনি বলেন, ‘অ্যাস্ট্রাজেনেকার যে টিকা ইউরোপের মানুষও নিচ্ছে সেই টিকা দেশে আনার সময় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সেটা কোনো কাজ করবে না এমনকি এটা নিলে স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনা আছে। একথা বলে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে। পরবর্তীতে দেখতে পেলাম তারাই আবার টিকা নিলেন, কেউ কেউ গোপনে আবার কেউ কেউ প্রকাশ্যে। আবার কেউ কেউ বললেন এই টিকা নিয়ে খুব আরামবোধ করছে।’

করোনা মহামারি প্রতিরোধে সরকারের কর্মযজ্ঞ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সরকার দেশের সমস্ত মানুষকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন দেশের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষকে টিকা প্রদান করা হবে। আমাদের এই টিকা সব মানুষের জন্য। আমরা বিএনপির সমস্ত নেতৃবৃন্দ, কর্মীদেরকেও আমরা টিকা দেবো। আর তারা যদি আগে নিতে চান, সে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। দয়া করে মানুষের মধ্যে আর বিভ্রান্তি ছড়াবেন না।’

বিএনপিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে এসময় হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কিভাবে প্রতিদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে থাকছে, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও খাদ্য সামগ্রী কিভাবে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে জেলায় এবং সেখান থেকে উপজেলা, ইউনিয়ন হয়ে জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে, সেটি আপনারা দেখুন। আপনাদের শুধু সমালোচনা করতে দেখতে পাচ্ছি কিন্তু মানুষকে ত্রাণ দিতে আপনাদেরকে দেখা যাচ্ছে না। সুতরাং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন।’

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ঈদে বাড়ি যাওয়ার পথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনগণের প্রতি অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপকমিটি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম রহমতুল্লাহ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ এসময় বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ও করোনা সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা।