করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান সরকার গোপন করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপির হাইকমান্ড। মহামারি মোকাবিলায় 'চরম ব্যর্থতা'র দায় নিয়ে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে দলটি।

বিএনপি বলেছে, হঠাৎ রপ্তানিমুখী কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে শ্রমিকরা মারাত্মক ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছে। একদিকে গণপরিবহন বন্ধ, অন্যদিকে কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়। এ পরিস্থিতিতে ঢাকার বাইরের এই শ্রমিকরা এবং তাদের মাধ্যমে ঢাকার জনগণও ভয়াবহ সংক্রমণের শিকার হতে পারেন।

শনিবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে নেতারা এসব কথা বলেন। রোববার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়বস্তু জানানো হয়।

বৈঠকে করোনাভাইরাসের ডেলটা ধরনের সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দলের নেতারা জানান, দেশে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ পরীক্ষার জন্য জেলা হাসপাতাল ও পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছে। কিন্তু সরকারের নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে বেশিরভাগ আক্রান্ত মানুষ টেস্ট করতে পারছে না।

নেতারা বলেন, শুরু থেকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা টেস্টের ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সঠিক তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে না। অন্যদিকে, আক্রান্ত ব্যক্তিরা হাসপাতালে বেড, অপিজেন ও আইসিইউ সুবিধা পাচ্ছে না। ঢাকার বাইরের রোগীরা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে মৃত্যুবরণ করছে। জেলা হাসপাতালগুলোতে পরিস্থিতি উন্নত করার কোনো প্রচেষ্টা সরকারের নেই। সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত চিত্র না দিয়ে জনগণকে প্রতারণা করার জন্য অসত্য তথ্য দিচ্ছে। হাসপাতালে সংবাদকর্মীদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার ভয়ে সংবাদকর্মীরা প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে পারছেন না। অন্যদিকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। অবিলম্বে এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য সরকারকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান বিএনপি নেতারা।

তারা বলেন, সব নাগরিকের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাক টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ সরকার এখন পর্যন্ত দিতে পারেনি। সরকার অবলীলায় জনগণকে ভুল তথ্য দিয়ে প্রতারণা করছে। সরকার এখন বলছে, প্রতি সপ্তাহে ৬০ লাখ লোককে টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। অথচ গত সাত মাসেও ৬০ লাখ লোককে টিকা দিতে পারেনি। টিকা প্রাপ্তির কোনো নিশ্চয়তা ছাড়াই প্রতি মাসে এক কোটি টিকা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে সরকার, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ব্যতীত কিছুই নয়। প্রতি মাসে এক কোটি টিকা প্রদানের জন্য টিকা প্রাপ্তির উৎস সরকার এখন পর্যন্ত জানাতে পারেনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে এসব 'ফাঁকা বুলি' না আওড়িয়ে অবিলম্বে টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান বিএনপি নেতারা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যরিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।