আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশে ক্ষমতার পরিবর্তনে এখানে একটি গোষ্ঠী উচ্ছ্বসিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে এরা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শুক্রবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশের আকাশে ষড়যন্ত্রের গন্ধ। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সামনের দিনে আরও চ্যালেঞ্জ আছে।

আফগানিস্তানের নাম উল্লেখ না করে ওবায়দুল কাদের বলেন, একটি দেশে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর একটি গোষ্ঠী উচ্ছ্বসিত। এখানে তাদের মতলবটা কী? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি চলছে। ফলে অনেক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। এবার তারা মাঠে নামবে, বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরেই বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। ষড়যন্ত্রের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সরকার হটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ছাত্রলীগকে সজাগ থাকতে হবে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজেরা নিজেদের শত্রু হবেন না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাকে এত প্রশ্ন করি, তিনি জবাব দেন না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মোশতাকের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন? বঙ্গবন্ধুর খুনিদের কে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন? কে খুনিদের বিদেশে চাকরি ও পুরস্কৃৃত করেছিলেন? উত্তর দিতে পারবেন না। এ জন্য আগস্ট মাস এলে তাদের গাত্রজ্বালা করে। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা কেন স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে তদন্ত করতে দিলেন না? কেন এফবিআইকে আসতে দিলেন না?

তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার পঞ্চম জন্মদিন। আরেকটি জন্মদিন দেখলাম করোনার টিকা নেওয়ার সময় রেজিস্ট্রেশনে। একটা মানুষের দুটি জন্মদিন হতে পারে। কিন্তু ছয়টি জন্মদিন হয় কীভাবে? যদি ছয়টি জন্মদিন হয়, তবে খালেদা জিয়াকে নোবেল পুরস্কার দিতে হয়। খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে কথা বলায় মির্জা ফখরুল বলেন, 'ওবায়দুল কাদের শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছেন।' কিন্তু হাওয়া থেকে পাওয়া কথা বলছি না, খালেদা জিয়ার জীবনী থেকে পাওয়া কথা বলছি। এটা বলেই যাব, যতদিন না মির্জা ফখরুল জবাব দেবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য প্রমুখ।