জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, ‘সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামে প্রবাসী সরকারের মাধ্যমে সেক্টর কমান্ডারসহ মুক্তিযোদ্ধাদের দায়িত্ব প্রদান ও পরিচালনা এবং মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর সরকার রাষ্ট্রীয় পদক প্রদান করে। এখন কেউ যদি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য অবদান ও বীরত্ব প্রদর্শনকে অস্বীকার করে তাহলে তা হবে বঙ্গবন্ধু সরকারের জন্য চরম ‘অসন্মানজনক’ এবং ‘প্রবাসী সরকারের’ কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপকৌশল।’

মঙ্গলবার রংপুর বিভাগের সমন্বয় কমিটির এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘বীরদের বীরত্ব নতুন করে প্রদর্শনের আর কোনো সুযোগ নেই, ৭১ সালেই তা মীমাংসিত হয়ে গেছে। কারও দেশপ্রেমকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কোনোক্রমেই ন্যায় সঙ্গত নয়। বিদ্যমান রাজনীতির বিরোধকে যথাযথ মোকাবিলা না করে হীন স্বার্থে সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামে অনন্যসাধারণ লড়াকু ভূমিকার মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অস্বীকার বা অবমূল্যায়িত করায় ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসার বিষ ছড়াবে, যা আমাদের অনেক অর্জনকেই ম্লান করে দিতে পারে। জাতি বিনির্মাণে যখন সমঝোতা ও ঐক্যের প্রয়োজন তখন বিভাজন, অনৈক্য ও সংঘাতের উস্কানি দায়িত্বশীল রাজনীতির সহায়ক হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘ভোটের অধিকার, আইনের শাসন, ন্যায় বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের জন আকাঙ্খা বাস্লবায়ন না করে অনাচার ও দুরাচারের পথ উন্মুক্ত করে ইতিহাসের গতিপথ নিরূপণ করা যায় না। গণতন্ত্র হত্যা করে, ভয়ের অপসংস্কৃতি চালু করে এবং সৃজনশীলতা ধ্বংস করে সুস্থ সমাজ যে বিনির্মাণ করা যায় না এই ন্যুনতম সত্যটুকু আমরা অনেকেই ভুলে যাচ্ছি। আসুন, আমরা সবাই প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়েএকটি মানবিক সমাজ বিনির্মাণে সচেষ্ট হই।’

রংপুর বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সভা বিভাগের সমন্বয়ক এবং দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, সাংগঠনিক  সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, আমিন উদ্দিন বিএসসিসহ রংপুর বিভাগের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডা.আবদুস সাদেক জেহাদী, শরিফুল ইসলাম, সাদিকুর রহমান, মশিউর রহমান, লাসেন খান রিন্টু, আলী আজগর প্রমুখ।