নাটোরের বড়াইগ্রামে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে শিয়াল ও সাপ হত্যার অভিযোগে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, রাজশাহীর ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মোহাম্মদ হেলিম রায়হান বাদী হয়ে এ অভিযোগ করেন।

অভিযুক্তরা হলেন- বড়াইগ্রাম ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হামিদ, জুবায়ের হোসেন, ইকুড়ীরাজাপুর গ্রামের কানু হোসেন, সবুজ হোসেন, রাতুল হোসেন, আব্দুর রবসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচজন।

মোহাম্মদ হেলিম রায়হান তার অভিযোগে জানান, গত শুক্রবার দুপুরে ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদসহ অভিযুক্তরা চারটি শিয়াল ও একটি দাঁড়াশ সাপ লাঠিপেটা করে হত্যা করে উল্লাস করেন। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের নজরে আসে। পরে মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এর সত্যতা মেলে। যা সম্পূর্ণ অমানবিক এবং বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিয়াল ও সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রাণীগুলোকে হত্যা করে পরিবেশের ক্ষতি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত আব্দুল হামিদ আগে ২০০ শামুকখোল হত্যা করেন। সে সময় মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছিলেন।

বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ বলেন, সম্প্রতি স্থানীয় এক গৃহবধূ ও শিশুকে শিয়াল কামড়ায়। এ ঘটনার পর গ্রামবাসীর অনুরোধে কয়েকজনকে নিয়ে শিয়াল খুঁজে বের করে পিটিয়ে হত্যা করি। শিয়াল মারা যে অপরাধ, সেটা আমার জানা ছিল না।

তিনি বলেন, সমাজের জন্য ভালো কাজ করেছি মনে করেই শিয়াল মারার পর ফেসবুকে ছবি আপলোড করেছিলাম। এখন দেখি উল্টো মামলায় পড়তে হলো।