বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সরকার ‘ভয় পায় বলেই’ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন।  

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন অসুস্থ ছিলেন তখন তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু তখন সরকার সেটা দেয়নি। এবারও সরকার সরকার খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে পারবে না বলে শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এতে আমরা খুব বেশি আশ্চর্য হইনি। কারণ, এই সরকার খালেদা জিয়াকে এতো বেশি ভয় পান যে, তাকে কোনো মতেই দেশের বাইরে যাওয়া বা মুক্ত করার বিষয়টা ভাবতেই পারে না। এজন্য খালেদা জিয়ার এতো অসুস্থতার পরও তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে দিচ্ছে না।’

দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা দুইটি মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে গত বছরের ২৫ মার্চ পরিবারের আবেদনে নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। দণ্ডের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হলে তিনি কারামুক্ত হন। এরপর গত বছরেরে সেপ্টেম্বরে এবং এই বছরের মার্চে আরও দুই দফায় ছয় মাস করে বাড়ানো হয় সাজা স্থগিতের মেয়াদ। এ নিয়ে মোট তিন দফায় ১৮ মাস সেই মেয়াদ বাড়ানো হলো। 

৭৭ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বর্তমানে গুলশানে তার ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় রয়েছেন। তিনি আরথ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। গত এপ্রিল মাসে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং পরে পোস্ট কোভিড জটিলতায় বসুন্ধরার এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৫৪ দিন।

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সাংগঠনিক কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। আমাদের বেশির ভাগ কমিটি তাদের পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। অঙ্গসংগঠনগুলোরও কাজ শুরু হয়েছে বেশি কিছুদিন ধরে। থানা পর্যায়ে, ইউনিয়ন পর্যায়ে হয়েছে। এখন জেলা পর্যায়ের হবে। করোনা মহামারীর কারণে সম্মেলনগুলো করা সম্ভব হয়নি। বেশিরভাগ জায়গায় সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। ঠিক একইভাবে বিএনপিরও যেসব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি আছে সেসব কমিটিগুলো নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তারা ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ে এবং একেবারে জেলা পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। কয়েকটি জেলায় সম্মেলন অতি দ্রুত শেষ হবে।’