তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘দেশের নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী ও স্বাধীন রয়েছে। বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কারও সহযোগিতা দরকার নেই। বাংলাদেশ সোমালিয়া কিংবা ইথিওপিয়া নয় যে, এখানে নির্বাচন করার জন্য জাতিসংঘের সহায়তা লাগবে। ইতোপূর্বে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে অনেক নির্বাচন করেছে।’

সোমবার দুপুরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) প্রথম প্রকাশনা সাময়িকী 'বিএসআরএফ বার্তা' উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার যে কারও ব্যাংক হিসাব তলব করতে পারে। এমপি, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তাদেরও ব্যাংক হিসাব তলব হয়। তবে কেউ স্বচ্ছ থাকলে এখানে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। কারণ এই ব্যাংক হিসাব থেকে যখন তাদের স্বচ্ছতা বেরিয়ে আসবে, তখন মানুষের সামনে তাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। তবে এটি কেন সংগঠনের নাম দিয়ে চাওয়া হলো এবং কেন এটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলো, সেটিই প্রশ্ন -সে প্রশ্ন অনেকেই রেখেছেন।

নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের জন্য বিএনপি'র ডাকের বিষয়ে প্রশ্ন করলে মন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি নেতৃবৃন্দ গত সাড়ে ১২ বছর ধরে এই দাবি করে আসছেন এবং জনগণকে আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু জনগণ তো তাদের আহ্বানে সাড়া দেয়নি এবং সাড়া দেওয়ার কোনো কারণও নাই। বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। বিএনপিকে বলবো, এ ধরনের ফাঁকাবুলি আউড়িয়ে লাভ হবে না।'

বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্য 'সরকার ভয়ে খালেদা জিয়াকে স্থায়ীভাবে মুক্তি দিচ্ছে না' এর জবাবে তিনি বলেন, 'বিএনপি'র বরং সরকারকে বহু আগে ধন্যবাদ দেওয়া প্রয়োজন ছিল। বিএনপিনেত্রী বেগম জিয়া জামিনে মুক্তি পাননি কিম্বা আদালত কর্তৃক খালাসও পাননি। প্রধানমন্ত্রী আইনপ্রদত্ত ক্ষমতাবলে তার সাজা স্থগিত করেছেন। সেই কারণে তিনি কারাগারের বাইরে আছেন। এই জন্য বিএনপি'র শুকরিয়া আদায় করা প্রয়োজন ও সরকারকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত। সরকার যেকোনো সময় চাইলে ৬ মাসের সাজা স্থগিতাদেশ বাতিল করতে পারে। সে আদেশ যদি আগামীকাল বাতিল হয় তাহলে তখনই বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফেরত যেতে হবে। এটিও বিএনপি'র মনে রাখা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।'

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আইপি টিভি রেজিষ্ট্রেশন দেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু তারা ডোমেইন বরাদ্দ পায় বিটিআরসি থেকে। ডোমেইন বরাদ্দ দেওয়ার আগে এখন থেকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর আমরা টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসির সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় একটি বৈঠক করবো।'

বাংলাদেশ সরকার চাইলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জাতিসংঘ সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে গত রোববার জানিয়েছেন ঢাকায় বৈশ্বিক সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো। এ বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া বলেন, নির্বাচনের এখনও অনেক বাকি। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত শক্তিশালী। নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কারও সহযোগিতা দরকার নেই। কারণ ইতোপূর্বে আমাদের নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে অনেক নির্বাচন করেছে। বাংলাদেশ সোমালিয়া কিংবা ইথিওপিয়া নয় যে, এখানে নির্বাচন করার জন্য জাতিসংঘের সহায়তা লাগবে। এ সময় বিএসআরএফের সভাপতি তপন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।