জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর নিয়ে সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দেশে ক্ষুধার্ত মানুষ রেখে প্রধানমন্ত্রী আত্মীয়-স্বজন নিয়ে সেখানে গেছেন বলে মনে করেন বিএনপির এই নেতা।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রয়াত নিশতার আহেমদ রাখীর স্মরণে এই শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (রুনেসা)।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনার সংকটে জাতি যখন দিশেহারা, ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে মানুষ আর তখন দেশে দেখছি ক্ষমতার অপব্যবহারের নামে জৌলুস। প্রধানমন্ত্রী ১৪১ জনের বিশাল বহর নিয়ে গেছেন আমেরিকা। তার আগে তিনি ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি গেছেন ভাগ্নেকে দেখতে। সেখান থেকে গেলেন নিউইয়র্ক।

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষ ক্ষুধার জন্য হাহাকার করছে। আর আপনি ১৪১ জন আত্মীয় স্বজন ও দলের লোক নিয়ে গেছেন ফিনল্যান্ড ও আমেরিকা!

বিএনপি নেতা রিজভী বলেছেন, করোনার কারণে নয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে সরকার। সেজন্য এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হলে নজরদারিতে রাখার কথা বলছে। সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর কথা বলছে। এতেই প্রমাণিত হয় যে, সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে।


সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমানো নিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নিম্ম মধ্যবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষকে আরো চাপে রাখলো সরকার। তার অর্থমন্ত্রী সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে দিয়েছেন। এর মানে হলো গরিবরা মরুক। তাদের দিকে কোনো নজর নেই।

কুইক রেন্টালের মেয়াদ বৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সরকার তার নিজের আত্মীয় স্বজন ও দলের লোকজন যেন জনগণের টাকা লুট করতে পারে সেজন্যই কুইক রেন্টাল আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে পাঁচ বছর। লুটপাটের সংস্কৃতি চালু করতেই এটা করেছে। যা ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জা বলেছেন। তিনি বলেছেন বর্তমান সরকার গণদুশমনের সরকার।

রুনেসার সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মো. মোকাম্মেল কবীরের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে এ সময় বক্তব্য দেন বিএনপির রংপুর বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব মো. আবদুর রহিম, ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ মো. নেছারুল হক, রুনেসার নেতা মাহবুবুর রহমান ফরহাদ প্রমুখ।

এছাড়া ছাত্রদলের সাবেক নেতা মেহবুব মাসুম শান্ত, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব মিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজু আহমেদ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী এতে উপস্থিত ছিলেন।