দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অবহেলা ও অবমূল্যায়নের অভিযোগ নিয়ে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিকরা। মাঝেমধ্যে দিবস পালনের সভানুষ্ঠানে সীমিত জোটের কার্যক্রম। 'কিছুই যেন করার নেই'- এমন মনোভাব নিয়ে কার্যত নিষ্ফ্ক্রিয়তায় দিন কাটছে শরিক দলগুলোর। ইদানীং দলগুলোর নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে সরকারের কিছু কড়া সমালোচনা উঠে আসছে।

প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অবশ্য ১৪ দলের কার্যক্রম কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে করোনার প্রাদুর্ভাবে দেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ সবকিছুতে স্থবিরতার কথা বলা হয়। জোটের নিষ্ফ্ক্রিয়তা অবশ্য আরও আগে থেকে।

শরিক দলগুলোর বড় অংশের অভিযোগ, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একতরফা বিপুল বিজয়ের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের মধ্যে 'অহমবোধ' বেড়েছে। দলটি এখন 'একলা চলো' নীতি নিয়ে শরিকদের উপেক্ষা করছে। জোটের ভেতরে দূরত্ব ও স্থবিরতা ১৪ দলের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লক্ষ্য তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এর আগে বেশ কয়েক বছর ধরে ১৪ দলের তৎকালীন মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে জোটের কার্যক্রম চলে আসছিল। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর প্রবীণতম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৪ দলের 'সমন্বয়ক' পদে থাকলেও গুরুতর অসুস্থতার কারণে কখনোই জোট নিয়ে সক্রিয় হতে পারেননি তিনি। ফলে ১৪ দলের সভা-সমাবেশ, বৈঠক ও জোট শরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাসহ সব কার্যক্রম চলেছে মোহাম্মদ নাসিমের মাধ্যমে। তখন টানাপোড়েনের মধ্যেই বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে সভা-সমাবেশ নিয়ে সোচ্চার দেখা গেছে ১৪ দলীয় জোটকে। সর্বশেষ গত বছরের মার্চে দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে মোহাম্মদ নাসিমের উদ্যোগে ১৪ দলের ব্যানারে রাজধানী ঢাকা ও সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ ও করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

গত বছরের ১৩ জুন করোনাভাইরাস ও ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মোহাম্মদ নাসিম মারা যান। ৮ জুলাই ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের দুই দায়িত্বই পান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি। জোটের সাম্প্রতিক অবস্থান বিষয়ে জানতে চাইলে সমকালকে তিনি বলেন, তার দায়িত্ব পালনের গত ১৪ মাসের পুরোটা সময় দেশজুড়ে করোনার প্রাদুর্ভাব চলছে। নিয়মিত ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে জোটের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, 'জোটের মধ্যে কোনো সংকট নেই, সবাই ঐক্যবদ্ধ আছেন।'

১৪ নয়, ১৩: বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের লক্ষ্যে ২০০৩ সালের শেষভাগ থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাম প্রগতিশীল ও মধ্য বাম দলগুলোর সমন্বয়ে জোট গঠনের প্রচেষ্টা শুরু হয়। কিছুদিন আন্দোলনের যুগপৎ কর্মসূচি পালনের পর ২০০৫ সালের ১৫ জুলাই অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ২৩ দফা লক্ষ্য ও কর্মসূচির ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ, ১১ দলীয় জোট, জাসদ ও ন্যাপকে নিয়ে ১৪ দলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। অবশ্য সে সময় বাম গণতান্ত্রিক দলগুলোর জোট ১১ দলের চার শরিক সিপিবি, বাসদ (খালেকুজ্জামান), বাসদ (মাহবুব) ও শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল ১৪ দলীয় জোটে যুক্ত হয়নি। অর্থাৎ শুরুতেই ১৪ দলে প্রকৃত দল ছিল ১০টি। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন তথা সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ড. কামাল হোসেনের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে তার নেতৃত্বাধীন গণফোরামকে জোট থেকে বাদ দেওয়া হয়। শরিক দাঁড়ায় ৯টিতে। পরে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে আরও তিনটি দল জাতীয় পার্টি-জেপি, তরীকত ফেডারেশন এবং বাসদ (মাহবুব) থেকে বেরিয়ে আসা একটি ক্ষুদ্র অংশকে নিয়ে গঠিত বাসদ (রেজাউর) ১৪ দলে যুক্ত হয়। ২০১৬ সালে হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ভেঙে গঠিত আলাদা দল বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) ১৪ দলে থেকে যাওয়ায় বর্তমানে শরিক সংখ্যা হলো ১৩।

এই জোটে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য চারটি দল ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জাতীয় পার্টি-জেপি ও তরীকত ফেডারেশনের সংসদে প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এই পাঁচটি দল ছাড়া নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত আছে ন্যাপ, গণতন্ত্রী পার্টি ও সাম্যবাদী দল। বাকি পাঁচ দল বাংলাদেশ জাসদ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ও বাসদের (রেজাউর) নিবন্ধন নেই।

সরকারের সমালোচনা: ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে নৌকা মার্কায় অংশ নিলেও নির্বাচনের পর গঠিত তৃতীয় মেয়াদের সরকারে ঠাঁই মেলেনি ১৪ দলের কোনো শরিকের। সরকার গঠনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়ে দেন, শরিক দলগুলোকে এখন থেকে নিজেদের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে 'বিরোধী দলের ভূমিকায়' থাকতে হবে। পরে একাদশ নির্বাচনের বিজয় উদযাপনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিজয় সমাবেশে শরিক দলগুলোকে আমন্ত্রণও জানানো হয়নি।

তখন থেকেই ক্রমশ সরকারের সমালোচনায় মুখর হতে দেখা যায় শরিক দলগুলোর নেতাদের। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচনগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনায় সরব হয় কয়েকটি শরিক দল। এই নির্বাচনগুলোর স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা দেশে-বিদেশে প্রবলভাবে সমালোচিত। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর বরিশালে দলীয় ফোরামের এক সভায় ২০১৮ সালের নির্বাচনের 'স্বচ্ছতা' নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেন। যদিও মেনন নিজেই ২০১৮ সালসহ আগের দুটি জাতীয় নির্বাচনে ১৪ দলের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন এবং কয়েক দফায় সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন। মেননের বক্তব্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয় এবং জোটের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। জবাবে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদানসহ বক্তব্য নিয়ে সৃষ্ট 'ভুল বোঝাবুঝির' জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন মেনন। এতে জোটে সৃষ্ট অস্বস্তিকর পরিস্থিতির অবসান ঘটে। সে সময় ১৪ দলের শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনাকেও বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল।

বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর স্বচ্ছতা ও ভোটার উপস্থিতির অস্বাভাবিক নিম্নহার নিয়েও প্রকাশ্য সমালোচনা করে চলেছে ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশ জাসদ, গণতন্ত্রী পার্টিসহ অধিকাংশ শরিক। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সন্ত্রাস, দুর্নীতির বিস্তারসহ জনজীবনের নানা সংকট, এমনকি সাম্প্রতিক করোনা মোকাবিলায় সরকারি ব্যবস্থাপনার ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং হেফাজতে ইসলামসহ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর প্রশ্নে সরকারের 'নতজানু নীতি' ও ক্ষেত্রবিশেষে 'সখ্য' গড়ে তোলার অভিযোগ নিয়েও সোচ্চার শরিক দলগুলো।

এর মধ্যে শরীফ নূরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাসদ প্রথম থেকেই সোচ্চার। বর্তমান সরকার ১৪ দলের নয়, শুধু 'আওয়ামী লীগ সরকার' আখ্যা দিয়ে নানা ক্ষেত্রে সরকারের কাজের সমালোচনা ও ব্যর্থতার উল্লেখ করে আসছে দলটি। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দলের জাতীয় কমিটির সভায় এ বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করে বাংলাদেশ জাসদ। পরপর তিনটি নির্বাচনে জোটগতভাবে নির্বাচিত বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল মারা গেলে তার আসন চট্টগ্রাম-৮-এর উপনির্বাচনে বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান ১৪ দলের মনোনয়ন চেয়ে পাননি। ওই আসনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন। ফলে বর্তমান সংসদে বাংলাদেশ জাসদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।

ভুলে যাওয়া নীতি: 'একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠন' এখন ১৪ দলের একটি ভুলে যাওয়া নীতিগত অঙ্গীকার। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে শরিকরা রাজনীতির মাঠের শক্তি অনুযায়ী নগণ্য সংখ্যক আসনে ছাড় পেয়েছিল। ২০১৮ সালে তা আরও কমে যায়। এর পর সংসদের উপনির্বাচন বা স্থানীয় নির্বাচনগুলোর কোনোটাতেই আর একসঙ্গে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়নি শরিক দলগুলোর। নেতারা জানান, এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শরিকদের মতামতও নেওয়া হয়নি। অবশ্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কিংবা সদস্যপদ দিয়ে কিছুটা হলেও মর্যাদা দেওয়া হয়েছে শরিক দলগুলোর সংসদ সদস্যদের।

আগামী নির্বাচনে একক প্রতীক নৌকা নয়, শরিক দলগুলোকে যার যার প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানিয়ে রাখা হয়েছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে। ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ হলেও সেটা অনেকটা মেনে নিয়েছে শরিক দলগুলো। এরই মধ্যে মতাদর্শগত বিরোধে দলে এক দফা ভাঙনের প্রেক্ষাপটে আগামী সব নির্বাচনে দলীয় প্রতীক 'হাতুড়ি' নিয়ে অংশগ্রহণের কথা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টি। অন্য শরিকরাও দলীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।

তবু ঐক্যের পক্ষেই: জোটের মধ্যে অবহেলা ও অবমূল্যায়ন নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও ১৪ দলের ঐক্যের পক্ষেই মত দিয়েছেন শরিক নেতারা। তারা বলছেন, ১৪ দল মূলত একটি আদর্শিক জোর, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। মন্ত্রিত্ব পাওয়া কিংবা আসন ভাগাভাগির জন্য নয়, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নের প্রশ্নেই এই জোটে যুক্ত হয়েছেন তারা। কাজেই জোটের চূড়ান্ত লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ১৪ দলের প্রাসঙ্গিকতা যেমন থাকবে, তেমনি এই জোটকে সহযোগিতাও করে যাবেন তারা।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি সমকালকে বলেছেন, ২৩ দফার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ১৪ দল এখনও প্রাসঙ্গিক। কেননা এখনও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ১৪ দলের সংগ্রাম পুরোপুরি সফলতা পায়নি। এ কারণে জোট নিয়ে কিছু সমস্যা থাকলেও তারা জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধই থাকবেন।

জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটসহ সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ১৪ দল গড়ে উঠেছিল। এখনও ওই সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অপশক্তিকে পুরোপুরি পরাজিত করা যায়নি, রাজনীতির মাঠ থেকে নিশ্চিহ্নও করা যায়নি। কাজেই ১৪ দলের প্রয়োজনীয়তা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রত্যাবর্তনের চলমান পর্বেও ১৪ দল এখনও প্রাসঙ্গিক। এরপরও আওয়ামী লীগ যদি মনে করে, ১৪ দল রাখার প্রয়োজন নেই, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে।

সরকারের সমালোচনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, তারা সরকারের বিরোধিতা নয়, গঠনমূলক সমালোচনা করছেন। সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে কথা বলছেন। এতে কেউ অসন্তুষ্ট হলে কিছু করার নেই।

জাতীয় পার্টি-জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই ১৪ দল গড়ে উঠেছে। এই আদর্শিক কারণেই তারা জোটে রয়েছেন। মন্ত্রিত্ব কিংবা হালুয়া-রুটি ভাগাভাগির জন্য নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ে তুলতে তারা জোটে সক্রিয় থেকে সরকারকে সহযোগিতা করে যাবেন।

ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, ১৪ দল যে লক্ষ্য নিয়ে গড়ে উঠেছিল, সেটা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে এই জোটের প্রয়োজনীয়তা এখনও যেমন ফুরিয়ে যায়নি, তেমনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকেই জোটকে এগিয়ে নিতে হবে।