বিএনপি মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার গোটা রাষ্ট্রকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। বিচার বিভাগে সাময়িক বিচারপতি নিয়োগ হয়েছে। এটাও দলীয়ভাবে হয়েছে। প্রশাসনের লোক নেওয়া হচ্ছে সব দলীয় ভিত্তিতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে লোক নেওয়া হচ্ছে দলীয় ভিত্তিতে। যেখানে চাকরির জন্য যাবে সেখানে দলীয় ভিত্তিতে নেওয়া হয়। এভাবে পুরো প্রশাসনকে সরকার দলীয়করণ করে ফেলেছে।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। হান্নান শাহ স্মৃতি পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, আজকে বিএনপির ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ৫০০ এর বেশি নেতা গুম হয়ে গেছেন, সহস্রাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এরপরও তারা আবার নির্বাচনের কথা বলে, গণতন্ত্রের কথা বলে। এ সরকার জেনে-শুনে এমন একটা অবস্থা তৈরি করেছে, যেন কেউ ভোট দিতে না পারে। এমন একটা অবস্থা তৈরি করেছে, যেন কেউ কোনো বিচার না পায়। যে আদালতেই যান, সেখানে বিএনপি দেখলেই তার জন্য আলাদা বিচার। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।

তিনি বলেন, আজকে মানুষ কথা বলতে পারে না, কেউ কথা বলার সাহস পায় না। আমি গত রোববার একটি রেস্টুরেন্টে চা খেতে গিয়েছিলাম। আমি যাওয়ার পর সেখানে সবাই ছুটে এল। আমরা যাদের, বয়-বেয়াড়া বলি, তারা এসে বলছে, ‘স্যার আমরা কেউ গাজীপুরে থাকি, কেউ ভোলায় থাকি, কেউ রাজশাহীতে থাকি। আমরা কেউ এলাকায় থাকতে পারছি না। আমরা মিথ্যা মামলা এবং আওয়ামী লীগের অত্যাচারে পালিয়ে চলে এসেছি। এ রকম ঘটনা একটা দুটো নয়। প্রায় সব জায়গায় আমাদের ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের ছেলেরা এমনকি বিএনপির বয়স্ক লোকেরাও এলাকায় থাকতে পারছে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে জোটবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। আজকে শুধু বিএনপির জন্য নয়, আজকে দেশকে বাঁচাতে হয়, জনগণকে যদি তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হয়, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হয়, বাঁচার অধিকার, কাজের অধিকারকে যদি ফিরিয়ে দিতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিভক্তি নয়, জোট বাঁধতে হবে। আমাদের নিজেদের মধ্যে ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাব না। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি ও দেশের জনগণ যাবে না। আবার এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। চেষ্টা করলে প্রতিরোধ করা হবে, বাধা দেওয়া হবে। সেই বাধার মুখে এই সরকার টিকে থাকতে পারবে না। এই সরকারের পতন ঘটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেব। নেতাকর্মীদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানান তিনি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এর আগে গণতন্ত্রের মুক্তির পূর্বশর্ত খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে।

সংগঠনের আহ্বায়ক, গাজীপুর জেলার আহ্বায়ক, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে সভায় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম বাবুল, প্রয়াত হান্নান শাহের ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান বক্তব্য রাখেন।