রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে আস্থাভাজন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটি বলেছে, কালক্ষেপণ না করে এ ব্যাপারে সরকারকেই রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।

শুক্রবার পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এক বিবৃতিতে আরও বলেছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সিদ্ধান্ত থাকলে সাংবিধানিক আইনি কাঠামোয় নির্বাচন কমিশন গঠনে সময় কোনো সমস্যা নয়। তাই সময় স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে আইনমন্ত্রী আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠন না করার যে কথা বলেছেন, সেটা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির আগেই সাংবিধানিক নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্নিষ্ট সবাইকে আস্থায় নিয়ে উপযুক্ত আইন প্রণয়ন এবং আস্থাভাজন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। সরকার ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের জেদ ও একগুঁয়েমি পরিহার করে অবিলম্বে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সাইফুল হক বলেন, সার্চ কমিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি গঠিত গত দুটি নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের রয়েছে। এই নির্বাচন কমিশন কীভাবে দেশের মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করে সরকারি দলের সহযোগীতে পরিণত হয়েছে এবং গোটা নির্বাচন ব্যবস্থা তামাশায় পরিণত করেছে, সেটাও কারোরই আর অজানা নয়। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের যুগলবন্দিতে দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন ব্যবস্থাকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। এই আদলের আরেকটি নির্বাচন কমিশন দেশবাসী কোনোভাবেই আর মেনে নিতে পারবে না।

বিবৃতিতে বলা হয়, আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করলেই যে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ বিদ্যমান গোটা নির্বাচন ব্যবস্থা টাকার খেলা, পেশিশক্তি, প্রশাসনিক ম্যানিপুলেশান আর প্রশাসনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়। সে কারণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠনও গুরুত্বপূর্ণ।