বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়। তিনি যেসব রোগে আক্রান্ত সেগুলোর চিকিৎসার জন্য মানসম্মত হাসপাতাল দেশে নেই। সরকার খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাকে ভয় পেয়ে তাকে জেলে নিয়েছে। খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে আওয়ামী লীগ সরকারের তল্পিতল্পা থাকবে না।’

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আফসার আহমদ সিদ্দিকীর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আফসার আহমদ সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সরকার খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করতে দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য খন্ডন করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের বলেছেন যে, আমরা নাকি রঙিন খোয়াব দেখছি। আর আপনারা কি দেখছেন? আপনারা দুঃস্বপ্ন দেখছেন- এই বিএনপি আসলো, এই বিএনপি আসলো, এই আমাদের ক্ষমতা গেল- এই দুঃস্বপ্ন আপনারা দেখছেন।’

দেশের অবস্থা তুলে ধরে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের এই অবস্থা থেকে আমাদের বের হতে হবে। আমরা এখানে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে পারবো না। হবে না তাহলে। এই মিটিং করে হবে না। এখন সংগঠিত হন, ঐক্যবদ্ধ হন, একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করবেন না। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটা ধাক্কা দিতে হবে। সত্যজিত রায়ের হীরক রাজার দেশে’র মতো- দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান। ওই দড়ি ধরে টান মারতে হবে, রাজাকে খান খান করে ফেলে দিতে হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নাই। এরা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে এরা আমাদের দেশের মানুষের ক্ষতি করতে থাকবে।’

ই-কর্মাসের নামে গ্রাহকদের অর্থ লোপাটের সঙ্গে ক্ষমতাসীনরাই জড়িত অভিযোগ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীনরাই এর সঙ্গে জড়িত। ই-কর্মাসের একজনের ছবি দেখলাম সরকার প্রধানের সঙ্গে। এসব প্রতারক মানুষ যারা ক্ষমতার পাশে দাঁড়িয়ে জনগণের পকেট কেটে তাদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে তারা সরকারের প্রশ্রয়ে আছে।

দেশের অর্থনীতির বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে একেবারে ফোকলা করে দিয়েছে। কিছুই নেই। একেবারে খালি, একেবারে পুরোপুরিভাবে লুট করে নিয়ে গেছে। প্রত্যেকটি ব্যাংক আজ বিপদগ্রস্ত হয়ে আছে। আপনি যদি ব্যাংককারদের সঙ্গে কথা বলেন- দেখবেন তারা কি কথা বলে। বলবে ভাই সব শেষ। একজন বড় অর্থনীতিবিদ বলেছেন যে, এ দেশে যারা ব্যাংকে টাকা রাখে বা ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। প্রত্যেকটা ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। সেটা জনগণের টাকা। ব্যাংক থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন ছাড়া কেউ ঋণ পায় না। আওয়ামী লীগের লোকেরাই হচ্ছেন পরিচালক। ১০ কোটি টাকার ঋণ নিতে ৫ কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়। আর ৫ কোটি টাকা ফেরত দিতে হয় না। কারণ আওয়ামী লীগের হুকুমে হয়েছে ওর ঋণ। তাই ফেরত না দিলেও চলবে। তারা বিদেশে কানাডার বেগমপাড়ায় গিয়ে বাড়ি বানায়, মালয়েশিয়ায় গিয়ে সেকেন্ড হাউস তৈরি করে। এ দেশে এটা চরমভাবে হচ্ছে। বর্তমান সরকার ‘বর্গীদের মতো’ অবস্থা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক প্রয়াত নেতার সহধর্মিনী জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও সদস্য জামিল আহমদ সিদ্দীকীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।