ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুপল্লীর মন্দির ও তাদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় চার্জশিটভুক্ত দুই আসামি পেলেন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। 

অভিযুক্ত দু'জন হলেন- নাসিরনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক মো. আবুল হাশেম ও হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি। মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগ এই দু'জনসহ নাসিরনগরের ইউনিয়ন পরিষদে মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে।

২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবরে নাসিরনগরে মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলায় ঘটনায় দেওয়ান আতিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

আওয়ামী লীগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বিকেল চারটায় দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণবভনে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের মুলতবি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপে নাসিরনগরের ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ফেসবুকে কথিত ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্টের জেরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৫টি মন্দির, শতাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ৮টি মামলা হয়। এসব হামলার ঘটনায় করা একটি মামলায় ২০১৭ সালে দেওয়ান আতিকুর রহমান ও আবুল হাশেমসহ ২২৮ জনকে আসামি করে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ।

আরও জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি দুপুরে ঢাকার ভাটারা এলাকা থেকে দেওয়ান আতিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলার ঘটনায় আদালতে এ পর্যন্ত ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে একাধিক আসামি নাসিরনগরের হামলার দিন দেওয়ান আতিকুর রহমানের নির্দেশে এবং যোগান দেওয়া অর্থেই ১৩ থেকে ১৪টি ট্রাক ভাড়া করা হয় বলে জানান।

এ বিষয়ে নাসিরনগর সদরের ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল হাশেম বলেন, 'ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম। স্থানীয় পুলিশ আমাকে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করলে আমি একটি মিছিলের সামনে পড়ে যাই। আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। বর্তমানে আমি জামিনে রয়েছি।'

হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান বলেন, 'এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমি জামিনে আছি।' 

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লা সরকার বলেন, 'আমি এ থানায় নতুন আসছি। তবে শুনেছি তারা দুইজন জামিনে আছেন।'

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার সমকালকে বলেন, 'কেন্দ্রে এই দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঠিয়েছি।'