নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। তারা বলেন, বর্তমান ভোট ডাকাতির সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ। মুনাফালোভী বাজার সিন্ডিকেটের কাছে জনগণ জিম্মি। সরকার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এতে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছে। 

বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডে বাসদ কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক সভায় নেতারা এসব কথা বলেন। সভায় বলা হয়, সরকার একদিকে বলছে- চালের উদ্বৃত্ত উৎপাদন। অথচ বাজারে চালের দাম ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। আবার বলছে- পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, চিনির পর্যাপ্ত মজুদ আছে। অথচ বাজারে সকাল-বিকেল লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে। এমনিতেই করোনায় মানুষের আয় কমে যাওয়ায় মানুষ খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে মূল্য বৃদ্ধির চাপ সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

সভার অপর এক প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমান অবৈধ সরকার দেশে দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন কায়েম করেছে। যার ফলে একদিকে করোনাকালে নতুন করে ১৭ হাজার ২৯৩ জন কোটিপতি বেড়েছে; অন্যদিকে নতুন দরিদ্র বেড়েছে আড়াই কোটি। সরকারের উন্নয়নের ঢাকের বাজনার নিচে চাপা পড়ছে শোষিত-বঞ্চিত মানুষের কান্না।

সভায় অবিলম্বে অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন তদারকি সরকারের অধীনে সুষ্ঠু-অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠান, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনসহ নির্বাচন ব্যবস্থা আমূল সংস্কারের দাবি করা হয়।

বাম জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা শিশু, ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদের (মার্কসবাদী) ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক কমরেড ফখরুদ্দিন কবীর আতিক, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নির্বাহী সভাপতি কমরেড আব্দুল আলী। আরও উপস্থিত ছিলেন আব্দুল্লাহ আল কাফী রতন, বহ্নিশিখা জামালী, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, আকবর খান, শহীদুল ইসলাম সবুজ, মনিরুদ্দিন পাপ্পু, বাচ্চু ভুঁইয়া, বিধান রায়, রুবেল মিয়া প্রমুখ।