সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের স্ত্রী শেরিফা কাদের।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে যুগ্ম-সচিব মো. আবুল কাসেমের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।

প্রয়াত মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর স্ত্রী মেহেজেবুন্নেসা রহমান টুম্পাকে এই নির্বাচনে প্রার্থী করার প্রস্তাব ছিল দলের কয়েক জ্যেষ্ঠ নেতার। কিন্তু দলের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক ছাড়াই নিজের ভাগ্নিকে বাদ দিয়ে বুধবার স্ত্রীকে সংসদে যাওয়ার টিকিট দেন জাপা চেয়ারম্যান।

বুধবার জাপার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরিফা কাদের বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। এর ঘণ্টাখানেক পর জাপার আরেক বার্তায় জানানো হয়, বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে না। তবে রাতে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, বৃহস্পতিবারই শেরিফা কাদেরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

জাপার নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সমকালকে বলেন, শেরিফা কাদের জাপার একমাত্র প্রার্থী। তাকে দলের মনোয়ন বোর্ড প্রার্থী করেছে কি-না, এ প্রশ্নে চুন্নু বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে শেরিফা কাদেরকে প্রার্থী করা হয়েছে।

সংসদে থাকা দলগুলোর মধ্যে প্রাপ্ত আসন সংখ্যার অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন ভাগ হয়। একাদশ নির্বাচনে ২২ আসনে জয়ী জাপা চারটি নারী আসন ভাগে পেয়েছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক মাসুদা এম রশিদ চৌধুরীর মৃত্যুতে জাপার একটি নারী আসন শূন্য হয়। নিয়ম অনুযায়ী, উপনির্বাচনে জাপাই এ আসন পাবে। ফলে শেরিফা কাদেরের এমপি হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

জিএম কাদের একাধারে দলের চেয়াম্যান, এমপি এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় বিরোধীদলীয় উপনেতা।

মেহেজেবুন্নেসা সমকালকে বলেন, ১০ দিন আগে স্বামীকে হারিয়েছি। এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এমপি বা অন্য কোনো পদে আমি প্রার্থী হইনি। দলের নেতাদের কেউ আমার নাম প্রস্তাব করে থাকলে, তা জানা নেই।

মেহেজেবুন্নেসা জাপার প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বোন মেরিনা রহমানের মেয়ে। তার মা এমপি ছিলেন। তার ছোট ভাই আহসান আদেলুর রহমান জাপার এমপি। অন্যদিকে শেরিফা কাদের একাধারে জাতীয় সংস্কৃতি পার্টির আহ্বায়ক এবং লালমনিরহাট জাপার সভাপতি।