আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে দলের তৃণমূলে। অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ছে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, হত্যা এবং সংখ্যালঘু ও নারী নির্যাতন মামলার আসামিরাও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপিসহ বিভিন্ন দল থেকে অনুপ্রবেশকারীরাও দলীয় প্রার্থী হয়েছেন।
এমনকি অতীতের বিদ্রোহী প্রার্থীরা কোনো অবস্থায়ই নৌকার মনোনয়ন পাবেন না বলে দৃঢ় ঘোষণা সত্ত্বেও কোনো কোনো জায়গায় এর ব্যত্যয় ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা অবশ্য বলছেন, তৃণমূল থেকে পাঠানো তালিকা যাচাই-বাছাই করেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তৃণমূল থেকেই বিতর্কিতদের নাম পাঠানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তথ্য গোপন করে নাম পাঠানো হয়েছে। সেসব অভিযোগ বিচার-বিশ্নেষণও করা হচ্ছে। প্রমাণ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে দলীয় প্রার্থী বদল করা হয়েছে।
আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় ধাপের ৮৪৮টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে এরই মধ্যে। গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু করে দলের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের টানা ছয় দিনের বৈঠকে বিভাগওয়ারি প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৃণমূলে রাজনৈতিক অবস্থান, স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ইমেজ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দলীয় আনুগত্য, জনসম্পৃক্ততা, অনুপ্রবেশকারী কিনা ইত্যাদি বিষয় চুলচেরা বিশ্নেষণ ও যাচাই-বাছাই করেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে মনোনয়ন বোর্ডের নেতারা জানিয়েছেন।
কিন্তু প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বেশকিছু জায়গায় দলীয় প্রার্থী নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ করতে দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন নেতাকর্মীরা। পটুয়াখালীর একটি ইউপির দলীয় প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় রাজধানীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি অনেক জায়গা থেকে দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩০টির মতো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক চলাকালে কিছু অভিযোগ জমা পড়ায় সেগুলো বিবেচনার জন্য বৈঠকেই উপস্থাপিত হয়েছিল। অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় কমপক্ষে তিনটি ইউপিতে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন করে নতুন প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলো দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আনা হয়েছে। সেগুলোর যাচাই-বাছাই চলছে।
সংখ্যালঘু ও নারী নির্যাতন মামলার আসামিও নৌকার প্রার্থী :ফেসবুকে কথিত ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার জেরে ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর সংঘটিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুপল্লির বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় অভিযোগপত্রভুক্ত দুই আসামি এবারও চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। অভিযুক্ত দু'জন হচ্ছেন নাসিরনগর সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক আবুল হাশেম এবং হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি। এর মধ্যে আতিকুর রহমান দেশজুড়ে আলোচিত নাসিরনগরে হিন্দু মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার প্রধান হোতা হিসেবে এখনও আলোচিত। হামলার ঘটনায় আতিকুরকে গ্রেপ্তার ও ইউপি চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্তও করা হয়েছিল। আরেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাশেম ওই সাম্প্রদায়িক হামলায় করা আটটি মামলার একটিতে অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের দু'জনকেই বাদ দিয়ে নতুন প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আবারও দলীয় মনোয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম। স্পেনের নাগরিকত্ব থাকা সেলিমের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই ইউনিয়ন এলাকায় সংঘটিত দেশজুড়ে আলোচিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে রাজনগর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক পুলক ভূঁঁইয়ার বাড়িতে সেলিমের নেতৃত্বে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একটি মামলা ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তরে লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছেন পুলক ভূঁঁইয়া। ওই ঘটনার পর সেলিম ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে এলাকায় মানববন্ধন হয়েছে। সেলিমের বিরুদ্ধে এর আগেও নারী নির্যাতনের দায়ে মামলা থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে এই ইউনিয়নে প্রার্থী করার জন্য দলের জেলা কমিটি থেকে রাজগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মাসুদ আলমের নাম সুপারিশ করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। মাসুদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগও দিতে হয়েছে তাকে। সর্বশেষ প্রতিকার চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সেলিম সমকালকে বলেন, দলের অন্যান্য মনোনয়নপ্রত্যাশী তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
হত্যা ও মাদক মামলার আসামিকেও মনোনয়ন :বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে যুবলীগ কর্মী ওমর ফারুক ও আওয়ামী লীগ কর্মী শিমুল হত্যাসহ তিনটি মামলা রয়েছে। একটি চাঁদাবাজির মামলাও রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। একই উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউপিতে মনোনয়ন পাওয়া রেজাউল করিম চঞ্চলকে র?্যাব ফেনসিডিল পাচারের দায়ে গ্রেপ্তার করেছিল।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম রূপম আবারও দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। অবশ্য পরে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করলে তার বরখাস্তের আদেশ স্থগিত হয়। এ ছাড়া একই উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক পাওয়া স্থানীয় বাঘমারা মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সহসভাপতি শাহজাহান কাজী ওই মাদ্রাসার গাছ চুরির অপরাধে জেল খেটেছেন।
বিএনপি থেকে আসা নেতাদেরও মনোনয়ন :নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা বিএনপির বহিস্কৃৃত সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম সেন্টু এবার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। সেন্টুর বিরুদ্ধে নাশকতার কয়েকটি মামলাও রয়েছে। বিএনপি থেকে বহিস্কার হওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল বলেন, কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে শুধু সেন্টুর নাম পাঠানো হয়েছে। সে নামই জেলায় পাঠিয়েছেন তারা। জেলা থেকে সেন্টুর নামই কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাঁশবাড়ী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব আশরাফুল হক। তার বাবা প্রয়াত সিরাজুল হকও বাঁশগাড়ী ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমান উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, সাংসদ রাজিউদ্দিন আহম্মেদ রাজুর ইচ্ছায় আশরাফুলের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। তবে আশরাফুলের নামের পাশে অনুপ্রবেশকারী কথাটা লিখে দেওয়া হয়েছিল। এর পরও মনোনয়ন বোর্ড তাকে কীভাবে দলের পক্ষে বাছাই করেছে, সেটা তার বোধগম্য নয়।
পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আসাদুল ইসলাম আসাদ। আসাদের পরিবারের সদস্যরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। ৯ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ভিপি আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, আসাদের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম মুন্সি মরিচবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। এ ছাড়া আসাদের মামাশ্বশুর মরিচবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক। এই পরিবার ও আত্মীয়স্বজন সবাই বিএনপির মতাদর্শে বিশ্বাসী।
বিদ্রোহী প্রার্থীর হাতে নৌকা :আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে- অতীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করা কেউ জনপ্রিয় হলেও তাকে আর দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না। কিন্তু পটুয়াখালীর দুটি ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে পরাজিত হওয়া কামাল হোসেন বিশ্বাস ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি এবার নওমালা ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।
একইভাবে পটুয়াখালীর দশমিনা ইউনিয়নে গতবারের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিজয়ী ইকবাল মাহমুদ লিটন এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। মনোনয়নের তালিকায় তার নাম পাঠানোর বিষয়ে জেলা সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতার নির্দেশে লিটনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।
তবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীকে কোনোমতেই দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। পটুয়াখালীতে যিনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন, তিনি ছিলেন উপজেলায় ডামি প্রার্থী। সেটা আগেই দলকে জানিয়ে রাখা হয়েছিল।
নেতারা যা বললেন :আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একাধিক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ইউপি নির্বাচনে দল মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে দল থেকে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, হাজারখানেক দলীয় মনোনয়নের মধ্যে ৩০টির মতো অভিযোগ এসেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাইকালে দেখা গেছে, বেশিরভাগ অভিযোগেরই কোনো ভিত্তি নেই। মনোনয়নপ্রত্যাশী কেউ কেউ দলীয় মনোনয়ন পাননি বলেই অভিযোগ করছেন। তবে দু-এক জায়গায় ভুল হওয়ায় সেগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে।