আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় না তাই বিএনপি আর আওয়ামী লীগের নির্বাচনের ফাঁদে পা দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেজন্য সবাইকে দেশ রক্ষার আন্দোলনে ঐকবদ্ধ হতে হবে।

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আয়োজিত কর্মী সমাবশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর কাজীর দেউরি এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা গত নির্বাচন নিয়ে কথা বলে না এখন। নির্বাচন কমিশন নিয়ে কথা বলে না। তারা নাকি সার্চ কমিটি করবে। সার্চ কমিটি করবেন? আপনারা হুদা মার্কা একটি সার্চ কমিটি করবেন। ওই ফাঁদে মানুষ আর পা দেবে না। আমার ভোট আমি দেবো। যাকে খুশি তাকে দেবো। সেটা না হলে ভোট কেন্দ্রে যাবো না।’

ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের কাছ থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। জনগণের সঙ্গে সব সময় প্রতারণা করছে। মিথ্যা কথা বলছে। আমাদের একেবারে বন্দি করে রেখেছেন। কথা বলতে দেওয়া হয় না। কিছু বললে মিথ্যা মামলা দেয়। গ্রেপ্তার করে। মাসের পর মাস বন্দি করে রাখে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এক লাখের বেশি মামলা দেওয়া হয়েছে। ইলিয়াস আলীসহ পাঁচশ’ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। শ’খানেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এই জালিম-ফ্যাসিস্ট সরকারকে আমরা সরাতে পারিনি।’

আওয়ামী লীগ লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার দেড় বছরের বেশি সময় লকডউন লকডাউন খেলা করেছে। তারা ফ্লাইওভার করছে, কিন্তু মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা করছে না। আওয়ামী লীগ যারা করেন তাদের প্রণোদনার টাকা দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের গুন্ডারা লুটপাট করছেন। লুটপাটের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ড্রাইভারের কাছে চারশ’ কোটি টাকা পাওয়া যায়। দেশ কোথায় গেছে।’

পূজামণ্ডপে হামলা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বয়স্ক লোকজন যারা আছেন, তারা জানেন বাবরি মসজিদের যে ঘটনা ঘটেছিল সে সময় বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তখন তিনি প্রত্যেক জেলায় জেলায় বলে দিয়েছেন যেন কোন ঘটনা না ঘটে। সেদিন কোন ঘটনা আমরা ঘটাতে দিইনি। আর এখন এরা কী করছে? তারা (সরকার) ঘটনা ঘটানোর জন্য কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনাতো ঘটিয়েছো তোমরা। ওইটার সূত্র ধরে চাঁদপুর, নোয়াখালী, আর চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করেছো। চৌমুহনীর ঘটনায় যে মামলা দেওয়া হয়েছে। তারা ভাঙচুর চালিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার বলেছিল ১০টাকায় চাল দেবে। বিনে পয়সায় সার দেবে। ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। সার কিনতে হচ্ছে তিনগুণ টাকায়।’

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, বিএনপির কেন্দ্রিয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদসহ চট্টগ্রাম বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।

সমাবেশজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোল ছিল। এতে বিরক্তি প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। এমনকি বক্তব্য দেওয়ার সময় কয়েক দফায় কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করতেও দেখা যায় তাকে।