বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, সাম্প্রদায়িক হামলা ও মন্দির ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে দোষারোপের রাজনীতি ওই সব ঘটনায় জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের প্রকৃত পরিচয়কেই আড়াল করবে। তাই দোষারোপের রাজনীতি বাদ দিয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে।

শনিবার রাজধানীর তোপখানা রোডে করোনা প্রতিরোধে ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টি গঠিত শহীদ রাসেল ব্রিগেডের কার্যক্রমের ১০০ দিন উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপস করে চলার নীতিই সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বিস্তার ঘটিয়েছে। সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় বিভিন্ন দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ, ক্ষেত্রবিশেষে নেতৃত্ব দেওয়াও তার প্রমাণ। তাই সরকারকে নির্মোহভাবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর জামায়াত-হেফাজতিরা এই সাম্প্রতিক সময়েও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। সাম্প্রদায়িকতার ব্যাপারে যে কোনো শৈথিল্যে তারা সুযোগ নেবে।

শহীদ রাসেল ব্রিগেডের ভূমিকার প্রশংসা করে রাশেদ খান মেনন বলেন, করোনাকালে একমাত্র ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই জনগণের পাশে ছিল বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটা ঠিক নয়। ঢাকার রাসেল ব্রিগেডই নয়, রাজশাহীতে শহীদ জামিল ব্রিগেডসহ ৪০টি জেলায় ওয়ার্কার্স পার্টির স্বেচ্ছাসেবক ব্রিগেডগুলো যে ভূমিকা রেখেছে, সেটাও অগ্রগণ্য। একই সময় ওয়ার্কার্স পার্টির কর্মীরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্নীতি ও বেহাল অবস্থার উন্মোচন করেছে। পাটকল-চিনিকল বন্ধের বিরুদ্ধে ও তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনে নেমেছে। সীমিত সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে থেকেছে।

ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কিশোর রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহ্‌ কামাল, রাসেল ব্রিগেডের সমন্বয়ক সাদাকাত হোসেন খান বাবুল প্রমুখ।