দুর্নীতি-লুটপাট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। জোটের নেতারা বলেছেন, বর্তমান সরকার ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসায় জনগণের প্রতি তার কোনো দায় নেই। এ সরকার বাজারে জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে শুধু ব্যর্থই নয়, বরং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এতে জনগণ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

সোমবার রাজধানীর পল্টন মোড়ে জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, ইউসিএলবির সাধারণ সম্পাদক মোশররফ হোসেন নান্নু, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আকবর খান, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আলী, ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা বিধান রায় প্রমুখ। পরিচালনা করেন বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। 

নেতারা বলেন, চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, চিনি, সবজি ও এলপিজিসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হু হু করে বেড়ে চলেছে, জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। ভারত ও থাইল্যান্ডসহ আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম কমলেও বাংলাদেশে বেড়েছে। তেল, পেঁয়াজ ও চিনির দামও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। সরকার বলছে মজুদ পর্যাপ্ত আছে, তারপরও দাম বৃদ্ধির কারণ কী? এর কোনো জবাব নেই। অন্যদিকে এলপিজির দাম তিন মাস আগেই ছিল ৮৫৯ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১২৯২ টাকা। 

অবিলম্বে বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ, গ্রাম-শহরের সর্বত্র পর্যাপ্ত ওএমএস ও রেশনিং চালু, গণবণ্টন ব্যবস্থা চালু এবং বাজার মনিটরিংয়ের জন্য গণতদারকি ব্যবস্থা চালুসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান নেতারা।